ছাত্র-জনতার লাগাতার আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবির মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার রাতে উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে জানান, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সাইবার স্পেসেসহ দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জুলাই আন্দোলনের কর্মী এবং ট্রাইব্যুনালের বাদী-সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, এ সংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।
এনসিপির নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। প্রথমে দলটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায় অবস্থান নেয়। পরে শাহবাগে অবরোধ শুরু করে। এনসিপি গঠনের পর থেকেই তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধের বিচার দাবি করে আসছিল। এসব দাবির প্রেক্ষাপটেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
জরুরি বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীও অনুমোদন পায়। সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, এর অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
এছাড়া, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রণীত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।




