নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে রূপরেখা তৈরি করছে সমমনা ইসলামি দলগুলো। পাশাপাশি এই ব্যানারে অন্যদের যুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনকে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে (৬ সেপ্টেম্বর) অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এই প্লাটফর্মে তারা যুক্ত হতে পারে।
সমমনা ইসলামি দলে এখন পর্যন্ত রয়েছে পাঁচটি দল। সেগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাস্তবতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর ‘এক বাক্সে’ ভোটের লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করে ‘সমমনা ইসলামি দল’। শুরুতে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলেও এখন নিষ্ক্রীয় রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। প্রায় দুই মাস থেকে দলটি সমমনাদের বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না।
দায়িত্বশীল সূত্রমতে, লিয়াজো কমিটির মঙ্গলবারের (২৬ আগস্ট) বৈঠকে সমমনা ইসলামি দল সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে কওমিপন্থী ইসলামি দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সমমনাদের প্লাটফর্মে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এই ব্যানারে যুক্ত হতে দল দুটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
ফোরাম সম্প্রসারণের তথ্য জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ বাংলামেইলকে বলেন, আমাদের গতকালের বৈঠকে ফোরামকে সম্প্রসারণ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত পাশ হয়। এই লক্ষ্যে ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনকে ফোরামের পরবর্তী বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, গতকালের বৈঠকে আমরা ফোরামের পরিসর বৃদ্ধি, নির্বাচনী জোট ও সমঝোতা নিয়ে পারষ্পরিক মতবিনিময় করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থীদের জোট না হলেও অন্তত নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে। এই লক্ষ্যে ফোরামে যুক্ত হতে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
এ ব্যাপারে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, তারা (সমমনা) আমাদের কাছে এসেছিলেন। ফোরামে যুক্ত হবার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবো।
সমমনা ইসলামী দলগুলোর জোট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে ঐক্যজোটের মহাসচিব বলেন, জোট নয়, আমরা শুনেছি নির্বাচনী সমঝোতা হবে। এ লক্ষ্যে রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এসব চূড়ান্ত হওয়ার আগে সম্ভাবনা নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, আমরা তো আগে থেকেই এই ফোরামে ছিলাম, মধ্যখানে ছিলাম না। আবারও সেখানে যোগ দেওয়ার কথাবার্তা চলছে। তবে আগামী বৈঠকেই যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো প্রস্তাব আমরা পাইনি। পেলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।
কওমিধারার রাজনৈতিক দলগুলোর এই ফোরাম এখনও আনুষ্ঠানিক জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। পারষ্পরিক বোঝাপড়া ও কৌশল নির্ধারণে লিয়াজো কমিটি পর্যায়ের বৈঠকেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কার্যক্রম। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ নির্বাচনে এক বাক্সে ভোটের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সমমনা ইসলামী দলগুলো।






ভাল নিউজ করেছেন