মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চা শিল্পে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর আওতাধীন চা বাগানগুলোতে গত পাঁচ দিনে সীমিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সময়মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ না হওয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
উপজেলার এনটিসি’র পাত্রখোলা, মাধবপুর, কুরমা, চাম্পারায় ও মদনমোহনপুর চা বাগানে সম্প্রতি উত্তোলিত প্রায় আড়াই লাখ কেজি কাঁচা চা পাতা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এসব পাতা থেকে প্রায় ৬০ হাজার কেজি প্রক্রিয়াজাত চা উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
কমলগঞ্জে এনটিসি, ডানকান ব্রাদার্স, চা বোর্ড, দেউন্দি টি কোম্পানিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ফাঁড়ি বাগান মিলিয়ে মোট ২২টি চা বাগান রয়েছে। সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসব বাগানে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চা প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপগুলো সময়সংবেদনশীল হওয়ায় পাতা তোলার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে স্বাদ ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সরাসরি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এনটিসি সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এতে চা কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দিনে প্রায় ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার মেশিন চালু রাখা যাচ্ছে না। ফলে উত্তোলিত কাঁচা পাতা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বিপুল পরিমাণ পাতা পচে যাচ্ছে বা মান হারাচ্ছে।
তবে চলতি মৌসুমে চা পাতার ফলন ভালো হলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নিলামের আগে উৎপাদিত পাঁচটি চা বাগানের ৫১ হাজার কেজি চা বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে উৎপাদন ও বিক্রি আরও বাড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তোলিত পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় তা নষ্ট হচ্ছে।” তিনি দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।





