‘এত নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের আমলেও হইনি। বিএনপি করেছি বলে কি অন্যায় করেছি?’—এমন প্রশ্ন রেখে ফেসবুক লাইভে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল বারিক। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দুই ছেলে ও এক ভাতিজাসহ সাতজনকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার রাতে তাহিরপুর উপজেলার উজান তাহিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে আব্দুল বারিক এসব অভিযোগ করেন। তাঁর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আব্দুল বারিক অভিযোগ করেন, এলাকায় আওয়ামী লীগ–সমর্থিত একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি সুনামগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
লাইভে আব্দুল বারিক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন–সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি তিনবার কারাবরণ করেছেন। গত ১৭ বছর রাজপথে থেকে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছেন। অথচ এখন তাঁর নির্দোষ দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ সাতজনকে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা কসমেটিকসের দোকান থেকে আটক করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছেলেদের দোকানে বারবার পুলিশ অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ অভিযানে কোনো মাদক উদ্ধার না হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, তাঁর ছেলেরা সিগারেটও খায় না। এ ঘটনায় পুলিশি নির্যাতন, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবদল এক প্রতিবাদলিপিতে আব্দুল বারিক, তাঁর ভাই, দুই ছেলে ও ভাতিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে নিন্দা জানিয়েছে।
আব্দুল বারিক বলেন, ‘আমি বাজারে ছিলাম। আমি ও আমার ছেলে–ভাতিজারা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার অপরাধ একটাই, আমি প্রাথমিক মনোনয়নবঞ্চিত আনিসুল হকের গ্রুপ করি। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
তাহিরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন, ‘যুবদল নেতার দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী বা জুয়াড়ি নয়। কোনো পক্ষকে খুশি করতে পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে ঘৃণ্য কাজটি করেছে। আমরা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’
তবে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। দোকান থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা না গেলেও জুয়া খেলার কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ উজান তাহিরপুর এলাকায় আব্দুল বারিকের ছেলে আশরাফুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় দোকানে থাকা কয়েকজন যুবকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে একজনকে আটক করলে অন্যরা তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পুলিশ সদস্য মিটু মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করে।





