চারদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শনিবার বিকেলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রথম এই ঘোষণা দেন। এরপর ভারত ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মুখর হয় দিল্লি ও ইসলামাবাদ।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি শনিবার গভীর রাতে দিল্লিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, “যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান তা একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। ভারত এই লঙ্ঘনকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং সেনাবাহিনী যথাযথ জবাব দিচ্ছে।”
তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৫টা ৩৫ মিনিট নাগাদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির কথা প্রকাশ করেন এবং এর আধঘণ্টা পর ভারত তা নিশ্চিত করে। তবে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ এবং পশ্চিম সীমান্ত বরাবর বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মন্তব্য করেন, “যুদ্ধবিরতি তো নেই মনে হচ্ছে!”
দিল্লি থেকে রাত ১১টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় সংবাদ সম্মেলনে আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে ভারত।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার ভারতীয় অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও বানোয়াট” আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে পারে না এবং তা করার কথাও ভাবে না। আমাদের দেশে এই শান্তির ফলাফল উদযাপনের পরিবেশ বিরাজ করছে। এটি আমাদের জন্য একটি কূটনৈতিক বিজয়।”
এর আগে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক দীর্ঘ রাতের আলোচনার পর ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বিবেচনা ও দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য দুই দেশকে অভিনন্দন জানাই।”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স-এ জানান, তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত ৪৮ ঘণ্টা ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রধানমন্ত্রী শরিফ শান্তির পথ বেছে নেওয়ায় রাষ্ট্রনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।”
এদিকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা সদা সতর্ক থাকবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এক্স-এ লিখেছেন, “ভারত সবধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারত ও পাকিস্তানকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত।
এ পর্যন্ত সংঘর্ষে বহু হতাহতের খবর মিলেছে, তবে কোনো পক্ষই নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে, তাদের আকাশসীমা পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য।




