অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমান সময়ে যাকে অনেকেই মব হিসেবে দেখছেন, তা আসলে সাংবাদিকতার ব্যর্থতা থেকে উদ্ভূত একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’। গত ১৫ বছরে জনগণের ন্যূনতম নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষিত না হওয়ায় এবং শীর্ষ সাংবাদিকদের পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থানের কারণে এই গ্রুপ গঠনের পটভূমি তৈরি হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সিআইআরডিএপ অডিটোরিয়ামে আগের সপ্তাহে দেওয়া বক্তব্যের অংশ প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম লেখেন, বলা হচ্ছে মব তৈরি হচ্ছে, আমি এটাকে মব বলছি না, বলছি প্রেসার গ্রুপ। সেটা তৈরি হচ্ছে আগের সাংবাদিকতার ব্যর্থতার কারণে। সেটি তৈরি হওয়ার গ্রাউন্ড কেন হচ্ছে! কেননা, সে তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৫ বছরে তো তার (প্রেসার গ্রুপ) মিনিমাম সিভিল লিবার্টি রাখা হয়নি। সে তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখন তার যে কনসার্ন— গত বছরের ২৮ জুলাই বাংলাদেশের শীর্ষ সাংবাদিকরা শেখ হাসিনাকে বলেছেন—‘এদের খুন করেন’, ‘পুলিশ কেন গুলি করছে না’, কেউ কি বলেনি? এরা তো শীর্ষ সাংবাদিক, শীর্ষ মিডিয়া হাউজের। এ ধরনের বক্তব্য পুনরায় প্রকাশিত হতে পারে— এই আশঙ্কা থেকেই প্রেসার গ্রুপের জন্ম হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির দায় পুরোপুরি সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয় বলে মন্তব্য করে স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, এটার সমাধান কী, সব দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন, সরকার যতটুকু পারে, সেই কাজটা সরকার করছে। যারা আস্থার জায়গা নষ্ট করেছেন, তারা কিন্তু কেউ সেই কথা বলছেন না। নতুন রাজনৈতিক সরকারকে সামনে রেখে তারা আবারও তাদের খুঁটি সাজাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার কোনো ধরনের কোনো উত্তরণ হবে না।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসার গ্রুপ ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বাড়ছে। কেউ কেউ এটিকে জনমত নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ একে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। প্রেস সচিবের মন্তব্য সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।




