আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আমাদেরকে বিচারব্যবস্থাটা গ্রহণযোগ্য করতে হবে। তাই আপনারা নিশ্চিত থাকেন, আপনাদের হতাশ হবার কারণ নাই। আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন চিন্তা ছিল, বিচারের কথা, সংস্কারের কথা,জুলাইয়ের শহীদদের পুনর্বাসনের কথা এবং নির্বাচনের কথা। আজকে বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন আসছে, নিশ্চিত করে বলতে পারি, বিচারব্যবস্থা পূর্ণ গতিতে চলছে, বিচার পূর্ণমাত্রায় দৃশ্যমান আছে। আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি নির্বাচনের আগে ফ্যাসিস্টদের অবশ্যই বিচার হবে।
সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৪ এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত আরিফুর রহমান পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ, (জুলাই আপরাইজিং) এর প্রিমিয়ার শো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এবং শহিদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়-র মা শামসি আরা জামান। তাঁরা তাঁদের শহিদ সন্তানসহ গণঅভ্যুত্থানে সকল শহিদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্বজন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, হাসিনার ফ্যাসিস্ট দলের লোকজন হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে। এই বিচার প্রক্রিয়া তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করবে। বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। তাই আমরা সর্বোচ্চমানের শ্রেষ্ঠ একটা বিচার করতে চাইছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস,বাংলাদেশের জুলাই কখনো বেহাত হবে না। অনেক কিছু বলতে পারছি না। শুধু বলবো আমাদের হতাশ হবার কিছু নাই।
তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে একটা স্লোগানের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার, ‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়; বাংলা কি তোর বাপদাদার।’ এই দেশ বাংলাদেশ আমাদের সবার। জুলাই আসলে জুলাইয়ের কথা বেশি করে মনে পড়ে। চোখের সামনে ভেসে উঠে ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে দুইবোন মিছিল করছে, এপিসি থেকে ইয়ামিনের দেহটা ফেলে দিচ্ছে; তখনো সে মরে যায়নি। তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে, একজন মা পানি বিলি করছে, মাদরাসার ছেলেরা লড়াই করছে। কিছু রিকশাচালক ভাই সিটের উপরে দাঁড়িয়ে ম্লোগান দিচ্ছে-আমার মনে হয় না, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোন মহাকাব্যিক ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে আন্দোলনের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ-চেতনার গতিপথ। তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে শহিদদের স্বজন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতা, শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিশিষ্টজনদের আন্দোলনকালীন স্মৃতিকথা ও নির্যাতনের চিত্র। ৩০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রে আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র ও গ্রাফিতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জীবন্ত দলিল। তথ্যচিত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ঠুরতা এবং তৎকালীন স্বৈরশাসকের দমন-পীড়নের চিত্র কখনো প্রত্যক্ষ দৃশ্যায়নে, কখনো অ্যানিমেশনের সাহায্যে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ শুধু একটি তথ্যচিত্র নয়, এটি সময়ের দলিল—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে এক সফল গণঅভ্যুত্থানের গল্প।




