মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পুশব্যাক (ঠেলে পাঠানো) করা ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সকালে সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরির সময় তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ।
বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের মুরইছড়া ক্যাম্প সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মুরইছড়া চা-বাগান সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় একদল নারী, পুরুষ ও শিশুকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন টহলরত সদস্যরা। পরে বিজিবি তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে জীবিকার তাগিদে বা অন্য প্রয়োজনে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে এবং শুক্রবার ভোরে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।
আটক হওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। তারা হলেন, নেত্রকোনা জেলা রাহুল তালুকদার (২৭), যুবরাজ সরকার (৪২) এবং সুনামগঞ্জ জেলার হাবুল দাস (৪৮), তার স্ত্রী সুমিত্রা দাস (৪৪), মেয়ে অনামিকা দাস (১৭), ভূমি দাস (৭), হেমন্ত দাস (১৬) ও গোপাল দাস (২৭)। এছাড়া সদর উপজেলার মো. আল আমিন (৩৫) ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯)।
বিজিবি গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আটককৃতদের কুলাউড়া থানায় সোপর্দ করে। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আটককৃতদের পরিবারের সদস্যরা থানায় পৌঁছালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“আটককৃতরা প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং স্বজনরা যথাযথ পরিচয়পত্র নিয়ে আসায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বিজিবি ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে নাগরিকরা নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন।




