সিলেটের রাজনীতিতে ‘জামাই’ শব্দটি নতুন নয়। তবে এই জামাই আর দশজনের মতো নন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান—দলীয় প্রধান হওয়ার পাশাপাশি বৈবাহিক সূত্রে সিলেটের মেয়ের জামাই। নিজেও সিলেটকে বলেন তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’। তাই সিলেটের তরুণেরা তাঁকে ডাকেন ‘দুলাভাই’, আর মুরব্বিদের মুখে শোনা যায় ‘জামাই’ সম্বোধন। দীর্ঘ ২২ বছর পর তাঁর সিলেট সফরকে ঘিরে নগরজুড়ে এখন এক ধরনের উৎসবের আবহ।
আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) সিলেটে আসছেন তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মোড়ে ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। দলীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণে নেতাকর্মীরা সাজিয়ে তুলেছেন পুরো শহর। সিলেট জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, এটি কেবল একটি সফর নয়—দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।
এর আগে সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। মাঝখানে বদলে গেছে দেশের রাজনীতি, বদলেছে সময়ের প্রেক্ষাপট। তবে সিলেটের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বন্ধন অটুটই রয়ে গেছে।
বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সিলেটের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করতেন। সেই পথ ধরেই তারেক রহমানও এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করছেন সিলেট থেকেই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে তিনি বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছাবেন। রাতেই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরদিন সকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। এরপর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। পরে বেলা ১১টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট হয়ে ঢাকায় গেলেও দলীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীদের জড়ো না হওয়ায় সিলেটবাসীর সঙ্গে দেখা হয়নি। সেই অতৃপ্তির অবসান ঘটছে এবার।
বুধবার দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ আর ফেস্টুনে রঙিন হয়ে উঠেছে চারপাশ। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মাঠের চারপাশজুড়ে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ব্যানার। নেতাকর্মীদের চোখেমুখে স্পষ্ট উচ্ছ্বাস।
সিলেট সফর শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন তারেক রহমান। পথে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও পথসভা হতে পারে।
সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ মিলিয়ে তিন লাখের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি বিভাগীয় সমাবেশ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জনসমাগম সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি থাকবে।




