আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে ড্রোনের মাধ্যমে সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক প্রেস কনফারেন্স হলরুমে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাকারিয়া কাদির বলেন, একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় বিজিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি জানান, ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রেরণামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা হাওড়বেষ্টিত ও দুর্গম হওয়ায় নির্বাচনী দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলার সড়ক ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়—সে লক্ষ্যে বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তথা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন উপলক্ষে জেলার প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে, এ কাজে দক্ষ জনবল প্রস্তুত রয়েছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবিতে নবসংযোজিত নন-লেথাল (অ-প্রাণঘাতী) অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিজিবির কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
তিনি জানান, সিলেট রিজিয়নের অধীন তিনটি ব্যাটালিয়ন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার ১০টি সংসদীয় আসনের ২৩টি উপজেলায় মোট ৫৫টি প্লাটুন মোতায়েনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে। সীমান্তবর্তী ৬টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী আরও ৫টি উপজেলা এবং অন্যান্য ১২টি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে বিজিবি মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এ সময় সুনামগঞ্জে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





