মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি হাকালুকি হাওরে এবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সোনালি ফসলের সমারোহ। ধান কাটার পর অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে কৃষকেরা ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে। কম খরচ, স্বল্প সময়ে ফলন এবং বাজারে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ায় এ ফসল এখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে বাড়তি আয় হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাওরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে বীজ বপন করলে মার্চ থেকে এপ্রিলে ফুল ও ফলন পাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষকে এখন লাভজনক হিসেবেই দেখছেন তারা। স্বল্পমেয়াদি এ ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে পারছেন কৃষকেরা।
এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে বর্ষা শেষে যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হাওরের মেঠোপথে দেখা হয় বেলাগাঁও গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “যে জমি বর্ষার পর পতিত থাকত, সেখানে কয়েক বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। আমার তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, প্রায় দেড় হাজার মণ বীজ পাব এবং দুই লাখ টাকার বেশি লাভ হবে।”
একই গ্রামের কৃষক মোজাক্কির মিয়া বলেন, “আগে জমি পতিত থাকত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সাত বছর ধরে সূর্যমুখী আবাদ করছি। ফলন ভালো হয়। নিজের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করি। এতে পতিত জমিতে আমাদের বাড়তি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।”
নয়াগাঁও গ্রামের লোকমান মিয়া বলেন, “আমার বাড়ি হাকালুকি হাওরের পাড়ে। শুকনো মৌসুমে জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।”
উপজেলার নয়াগাঁও, বেলাগাঁও, জাহাঙ্গীররাই ও ইউসুফপুর এলাকায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
কৃষিবিদেরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হাকালুকি হাওরে সূর্যমুখী চাষ আরও লাভজনক হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “বর্ষা শেষ হওয়ার পর প্রায় ছয় মাস হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার জমি অনাবাদি থাকে। বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সেচ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায়ও সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ফলন আরও বাড়ে এবং কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন।”





