আজ ৯ মার্চ, ১৯ রমজান। ২০তম তারাবিহর নামাজ পড়া হবে আজ। কুরআনুল কারিমের ২৩তম পারায় হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বন্দী জীবনের বর্ণনাসহ মানুষের কৃতকর্মের বর্ণনা বিষয়াবলী পড়া হবে আজ।
আজকের তারাবিহতে সুরা ইয়াসিনের বাকি অংশ, সুরা সাফফাত, সুরা সোয়াদ এবং সুরা ঝুমারের ৩১নং আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। প্রিয় নবী (সা.)-এর মাক্কী জীবনে কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা ওঠে আসবে আজকের তারাবিহতে। পরকালের বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি ও প্রাপ্তিতে প্রফুল্ল হয়ে ওঠবে মুমিন রোজাদারের হৃদয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুয়তের দায়িত্ব পালনের কারণে মক্কী জীবনে অসংখ্য অত্যাচার-নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। পরিবার-পরিজনসহ বন্দি জীবন কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন। আজকের তারাবিহতে প্রিয়নবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়ার সেসব আয়াতগুলোও তিলাওয়াত করবেন হাফেজ কুরআনগণ। যা শুনে মুসলিম উম্মাহ কুরআনের দাওয়াতে শত বাধায়ও হবে অনুপ্রাণিত। আজকের তারাবিহতে তিলাওয়াতকৃত আয়াতেসমূহের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
সুরা ইয়াসিন: আয়াত ২২-৮৩
কুরআনুল কারিমের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুরা ‘সুরা ইয়াসিন’। এটি পবিত্র নগরী মক্কায় নাজিল হয়। সুরাটি ৫ রুকু এবং ৮৩ আয়াতে সুবিন্যস্ত। যে দুটি হরফ দিয়ে সুরাটি শুরু করা হয়েছে, তা দিয়েই সুরার নাম করণ করা হয়েছে।
সুরা ইয়াসিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কী জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নাজিল হয়েছে। এ সুরায় মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রেসালাতকে অকাট্য প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত করার পাশাপাশি এ রেসালাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত প্রদান করা হয়েছে।
যারা বিশ্বনবী (সা.)-এর রেসালাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে না তাদেরকে কঠিন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করে সতর্ক করা হয়েছে। সাথে সাথে অবিশ্বাসীদেরকে যুক্তি ও অকাট্য প্রমাণ দ্বারা এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার নীতি অবলম্বন করা হয়েছে।
এ সুরায় তিনটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে—
১. তাওহিদ বা একত্ববাদ : প্রাকৃতিক নিদর্শন ও সাধারণ বিবেক-বুদ্ধির মাধ্যমে;
২. পরকাল সম্পর্কে : প্রাকৃতিক নিদর্শন, সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি এবং স্বয়ং মানুষের অস্তিত্বের সাহায্যে;
৩. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়ত ও রেসালাতের সত্যতা সম্পর্কে : এ ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছে যে, বিশ্বনবী (সা.) সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে অসহনীয় কষ্ট, দুর্ভোগ, নির্যাতন সহ্য করে নবুয়তের মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দাওয়াত ছিল যুক্তিযুক্ত এবং বিবেক সম্মত। যার মধ্যে সবার জন্য কল্যাণ নিহিত।
সুরা সাফফাত
সুরা সাফফাত হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সুরাটি ৫ রুকু ও ১৮২ আয়াতে সুবিন্যস্ত। এ সুরায় পূর্ববর্তী নবি রাসুলদের ঘটনাসমূহের ব্যাপক উদ্ধৃতি দিয়ে প্রিয়নবী (সা.) কে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.) ও তার সাহাবাদের ওপর যখন প্রচন্ড রকমের নির্যাতন চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে অর্থাৎ মক্কী জীবনের শেষ দিকে এ সুরা নাজিল হয়। এ সুরা সংক্ষিপ্ত আলোচ্যসূচি তুলে ধরা হলো—
১. এতে তাওহিদ, রেসালাত, পরকালের বিশ্বাসসমূহ বিভিন্ন পন্থায় উপস্থাপিত হয়েছে।
২. মুশরিকদের ভ্রান্ত আক্বিদা বিশ্বাসের খণ্ডন করা হয়েছে।
৩. জান্নাত জাহান্নামের অবস্থাসমূহের চিত্রায়ন করা হয়েছে।
৪. পয়গাম্বরগণের দাওয়াতের বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
৫. কাফেরদের সন্দেহ ও আপত্তির নিরসন করা হয়েছে।
৬. হজরত নুহ, হজরত ইবরাহিম ও তাদের পুত্রগণ, হজরত মুসা, হজরত হারুন, হজরত ইলিয়াস, হজরত লুত ও হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনাবলী কোথাও সংক্ষেপে আবার কোথাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. মক্কার অবিশ্বাসীরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে অভিহিত করতো, এ সুরার উপসংহারে বিশদভাবে এ ধারণার খণ্ডন করা হয়েছে।
৮. সবেচেয়ে শিক্ষণীয় বিষয় হলো— হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান জীবনেতিহাস সবিস্তার আলোচিত হয়েছে এ সুরায়। যা বিশ্বনবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের জন্য বিপদের মুহূর্তে উজ্জীবিত হওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে।
সুরা সোয়াদ
৫ রুকু ও ৮৮ আয়াতে সুবিন্যস্ত হলো সুরা সোয়াদ। গুনাহ মাফের এ সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরার পটভূমি হলো- বিশ্বনবী (সা.)-এর পিতৃব্য আবু তালিব ইসলাম গ্রহণ না করা সত্ত্বেও তার দেখা শোনা ও হিফাজত করে যাচ্ছিলেন। এ সুরা সংক্ষিপ্ত আলোচ্যসূচি তুলে ধরা হলো—
১. পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম ও শান ও মানের দ্বারা প্রিয় নবী (সা.)-এর রেসালাত ও নবুয়তের দলিল প্রমান উপস্থাপন করা হয়েছে।
২. এ সুরায় হজরত দাউদ, হজরত সোলায়মান এবং হজরত আইউব (আ.)-এর অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।
৩. মক্কার কুরাইশরা আফসোস করে বলতো- যদি আমাদের কাছে কোনো উপদেশ গ্রন্থ নাজিল হতো। তবে আমরা পূর্ববর্তী লোকদের ন্যায় আল্লাহ তাআলার খাঁটি বান্দা হতে পারতাম। তাদের আকঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। যা এ সুরায় আলোচিত হয়েছে।
সুরা যুমার
সুরা যুমার মক্কায় নাজিল হয়। ৮ রুকুর ৭৫ আয়াতে সুবিন্যস্ত সুরাটির প্রথমাংশ দিয়ে আজকের তারাবি শেষ হবে। এ সুরাটি সুরাতুল গোরাফ নামেও পরিচিত। সুরার অধিকাংশ বক্তব্য তাওহিদ সম্পর্কিত। তাওহিদের বিশ্বাসীদের পুরস্কার, আর কুফর ও শিরকে বিশ্বাসীদের শাস্তির কথাও এ সুরায় ঘোষিত হয়েছে।




