প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পুণ্যভূমি সিলেটে পা রাখলেন তারেক রহমান। দিনভর তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যস্ততা থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসার কিছু নির্ভার মুহূর্ত। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে শাহজালাল (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাঁদের হাত ধরে হাঁটার ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।
শনিবার সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই ডা. জুবাইদা রহমানকে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর ছায়ার মতো পাশে থাকতে। বিমান থেকে নামার সময় প্রধানমন্ত্রীর হাতে হাত রেখে ডা. জুবাইদার হাঁটার দৃশ্যটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। পরে বেলা সাড়ে ১০টায় যখন তাঁরা হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতে পৌঁছান, তখন সিলেটে চলছিল মুষলধারে বৃষ্টি। প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও একে অপরের প্রতি এই নির্ভরতার দৃশ্য দেখে নেটিজেনরা তাঁদের ‘আদর্শ দম্পতি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এই দম্পতিকে নিয়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। আ ন ম মাহমুদ্দিন নবী নামের এক নেটিজেন লিখেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের কঠিন পথচলায় যখন রাজনৈতিক ঝড় তাঁকে বারবার ভেঙে দিতে চেয়েছে, তখন নীরবে শক্ত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি (জুবাইদা রহমান)। আজকের এই মুহূর্ত শুধু একটি ছবি নয়, এটি বিশ্বাস আর অপেক্ষার জয়গাথা।
ভক্ত-অনুরাগীরা বলছেন, ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তাঁদের এই সহজ-সরল ও আন্তরিক রসায়ন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অন্যরকম আবেদন তৈরি করেছে।
ব্যক্তিগত মুহূর্তের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক ব্যস্ততাও ছিল চোখে পড়ার মতো। মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১১টায় তিনি সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী খননকাজের শুভ সূচনা করেন।
বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রতিযোগিতার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন শেষে তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি দলীয় সভায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সরকার গঠনের পর তারেক রহমানের প্রথম সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা নগরী ছিল উৎসবমুখর। হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে গ্রাম থেকে ছুটে আসেন। দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ডা. জুবাইদা রহমানের সরব উপস্থিতি ও তাঁদের মধ্যকার সুন্দর বোঝাপড়া রাজনৈতিক মহলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধের এই দৃষ্টান্ত সাধারণ মানুষের মনে গভীর ইতিবাচক ছাপ রাখবে।




