প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এ সফর ঘিরে নগরজুড়ে যেমন তৈরি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা, তেমনি নানা প্রত্যাশাও রয়েছে সাধারণ মানুষের। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকায় থেকে সিলেটে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর তিনি নগরভবনে সুধী সমাবেশে অংশ নেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার, সিলেটের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে।
দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করবেন তিনি।
এছাড়া বিকেল ৫টায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে সিলেট নগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে বৃক্ষরোপণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। এর মধ্যে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা দাবির মধ্যে সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপন উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর, যা ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন তার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে সিলেটবাসী।




