আহত হয়ে আড়ালে থেকেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও দেশটির যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখছেন, বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গোয়েন্দা রিপোর্টে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসার এবং তার বর্তমান অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরির কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে এখন নেতৃত্ব কাঠামো কিছুটা বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা ও যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার শুরুর দিকে এক হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এরপর তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেন না। বরং সরাসরি সাক্ষাৎ বা কুরিয়ারের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি শুক্রবার দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার পা, কোমরের নিচের অংশ এবং কানের পেছনে আঘাত লাগলেও সেগুলো সেরে উঠছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি চলতি সপ্তাহে মোজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ইরানের কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার প্রথম প্রকাশ্য বৈঠকের তথ্য।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলোর একাংশের দাবি, খামেনি এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি সক্রিয় নন। তারা বলছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের বর্তমানে দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনায় বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন এখনও সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি হলেও ইরান এখনো কয়েক মাস পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ মোকাবিলা করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।




