মোনাজাত শেষে সোহরাওয়ার্দী ছাড়ছে মানুষ
ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে ডাকা ‘মার্চ ফর গাজা’র মোনাজাত শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়ছেন মানুষ। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’।

শনিবার বিকাল ৪টায় মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।
এদিন মার্চ ফর গাজা কর্মসূচি ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশেপাশের এলাকায় কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। সংহতি জানাতে আসা এসব মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে লেখা প্ল্যাকার্ড, ফিলিস্তিনের পতাকা ও টি-শার্ট পরে আসতে দেখা যায়।
‘মার্চ ফর গাজা’ : ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন মাহমুদুর রহমান
কর্মসূচির প্রধান আকর্ষণ ছিল ঘোষণাপত্র পাঠ, যা পাঠ করেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ঘোষণাপত্রে তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান—ইসরায়েলের সঙ্গে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে। একই সঙ্গে তিনি গাজায় ইসরায়েলের বর্বর আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের বর্বরতা শুধু একটি অঞ্চলের সঙ্কট নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ। মুসলিম উম্মাহর এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।”

ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে-
১. বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘Except Israel’ শর্ত পুনর্বহাল করা, ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে।
২. সরকারের ইসরায়েলি joto প্রতিষ্ঠানের সাথে যত চুক্তি হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে।
৩. রাষ্ট্রীয়ভাবে গাজায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং আমদানি নীতিতে জায়নবাদী কোম্পানির পণ্য বর্জনের নির্দেশনা দিতে হবে।
৫. ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে, যেহেতু হিন্দুত্ববাদ আজ শুধু একটি স্থানীয় মতবাদ নয়—বরং আন্তর্জাতিক জায়নিস্ট ব্লকের অন্যতম দোসর।
৬. পাঠ্যবই ও শিক্ষা নীতিতে আল-আকসা, ফিলিস্তিন, এবং মুসলিমদের সংগ্রামী ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিল ধারণের ঠাঁই নেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতার প্রতিবাদে ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নির্ধারিত ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। এখনো রাজধানীর সড়কগুলোতে মিছিলের সারি। মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে যাচ্ছে মানুষ।

শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল কর্মসূচি শুরু হয়।
রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলোতেও প্রতিবাদী মিছিল দেখা গেছে। দলবদ্ধভাবে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে কেউ বাসে, কেউ পায়ে হেঁটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে যাচ্ছেন। তাদের হাতেও রয়েছে ফিলিস্তিনের পতাকা, মুখে ইসরায়েলি আগ্রাসনবিরোধী স্লোগান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লোকে লোকারণ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে, গলা ফাটিয়ে শত শত মানুষ স্লোগান দিচ্ছে ‘তুমি কে আমি কে, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন’।
শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ আর সাদা-কালো রঙের পতাকা। অনেকের হাতে রয়েছে ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’, ‘গাজা রক্তে রঞ্জিত, বিশ্ব কেন নীরব’—স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড।
ছবিতে ঢাকায় জনতার মহাসমুদ্র
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেমেছে লাখো মানুষের ঢল। সবার হাতে দুই হাজার কিলোমিটার দূরের ভূমি ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা।
ঢাকার বুকে ‘একখণ্ড ফিলিস্তিন’
রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে, গলা ফাটিয়ে শত শত মানুষ স্লোগান দিচ্ছেন ‘তুমি কে আমি কে, ফিলিস্তিন ফিলিস্তিন’। চারপাশে শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ আর সাদা-কালো রঙের পতাকা। অনেকের হাতে রয়েছে ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’, ‘গাজা রক্তে রঞ্জিত, বিশ্ব কেন নীরব’- স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। চারদিকে শুধু মিছিলের গর্জন। এ যেন রাজধানীর বুকে নেমে এসেছে একখণ্ড ফিলিস্তিন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচির আগে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘গাজা উই আর উইথ ইউ’, ‘স্টপ জেনোসাইড ইন গাজা’সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।

ঢাকায় জনসমুদ্র, ফিলিস্তিনের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ
‘মার্চ ফর গাজা’ গণসমাবেশে অংশ নিয়ে ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, জনতার এই মহাসমুদ্র ফিলিস্তিন ও আল আকসার প্রতি আমাদের ভালোবাসার প্রকাশ। ভৌগোলিকভাবে আমরা তাদের থেকে দূরে থাকলেও আজকের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে-আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে বাস করে একটি করে ফিলিস্তিন।
শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশে উপস্থিত হন তিনি।
তার সঙ্গে কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন-জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকে।
এসময় ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন! প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি!—এই স্লোগান দেন মিজানুর রহমান আজহারী।
‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে ঢাকায় মানুষের ঢল
‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে ছুটে আসছে। শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে টিএসসি ও উদ্যান এলাকায় জমেছে মানুষের ঢল।
ফেসবুকে ‘মার্চ ফর গাজা’ নামে ইভেন্ট খুলে পাঁচটি প্রবেশপথ নির্ধারণ করেছে প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট, বাংলাদেশ। সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ, মানুষ হেঁটেই উদ্যানে আসছে।
গণজমায়েতে যোগ দিতে নেত্রকোনা থেকে এসেছেন মুফতি বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের উচিত ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।”
আসা শিক্ষার্থীদের একজন, আইডিয়াল কলেজের নিশা বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই এখানে এসেছি।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে ‘মার্চ ফর গাজা’ শনিবার
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল শনিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মার্চ ফর গাজা’। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের অংশগ্রহণে এক বৃহৎ ঐক্য গড়ে উঠেছে।
বিকেল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া এই মার্চে সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সব দল-মতের মানুষ একটি মানবিক ইস্যুতে এক কাতারে দাঁড়াতে চলেছেন। কর্মসূচির সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।
গাজায় হামলা : শনিবার বার্মিংহামে হেফাজতের প্রতিবাদ সমাবেশ
গাজয় চলমান হামলার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে চলছে প্রতিাবাদ ও বিক্ষোভ আন্দোলন। গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে আগামীকাল শনিবার বার্মিংহামের ঐতিহাসিক স্মলহিথ পার্কে সমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম মিডল্যান্ডস শাখা।
হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা এনামুল হাসান সাবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলা মেইলকে।
তিনি জানান দুপুর ১২টায় স্মলহিথ পার্কে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে যুক্তরাজ্যের মিডল্যান্ডসে অবস্থানরত সর্বস্তরের মুসলিম জনতার উপস্থিতি কামনা করেছেন এই নেতা।








