নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় আসন সমঝোতার জোট এখন গভীর অনিশ্চয়তায়। আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক আচরণের অভিযোগ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস—সব মিলিয়ে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
নয় মাস আগে ‘ইসলামী দলগুলোর এক বাক্সে ভোট’—এই স্লোগান সামনে রেখে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল আসন সমঝোতার যে উদ্যোগ নেয়, সময়ের সঙ্গে তা রূপ নেয় বৃহত্তর ১১ দলীয় নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মে। তবে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐক্যের ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিভেদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আসন বণ্টন। ইসলামী আন্দোলন শুরুতে ১০০ আসনের দাবি তুললেও পরে ঐক্যের স্বার্থে তা কমিয়ে ৫০-এ নামায়। অভিযোগ, জামায়াত সেখানে ৪০টির বেশি আসনে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বরিশাল-৫ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জামায়াত প্রার্থী না সরানোয় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। একইভাবে খেলাফত মজলিসসহ অন্য শরিক দলগুলোর দাবির সঙ্গে পাওয়া ছাড়ের ফারাকও অসন্তোষ তৈরি করেছে।
তবে সংকট শুধু আসন বণ্টনে সীমাবদ্ধ নয়। জোটের কয়েকটি দলের নেতারা জামায়াতকে নিয়ে ‘অবিশ্বাস’ ও ‘সন্দেহ’-এর কথাও প্রকাশ্যে আনছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমিরের একক বৈঠক, আবার ধর্মভিত্তিক নয়—এমন কয়েকটি দলকে শরিক করার ক্ষেত্রে জোটের ভেতরে আলোচনা না করার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আসন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই দ্বন্দ্ব আসলে বৃহত্তর আস্থার সংকটের প্রতিফলন। ঐক্যের কোনো স্পষ্ট রাজনৈতিক নীতিমালা বা সমঝোতার লিখিত কাঠামো না থাকায় বিভ্রান্তি বেড়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য এবং অতীতের দূরত্বও এই সংকটকে তীব্র করছে।
জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে জোট টিকিয়ে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান তুলনামূলক কঠোর। তাদের নেতারা প্রকাশ্যে আত্মসম্মানের প্রশ্ন তুলে জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় অল্প সময়ের মধ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জোট টিকে গেলেও ভেতরে যে ফাটল ধরেছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। অবিশ্বাসের এই ছায়া কাটাতে না পারলে নির্বাচনের মাঠে ঐক্যের কার্যকারিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন থেকে যাবে।




