মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গত মাসে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দেওয়ায় ব্রিটিশ চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ চিকিৎসক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ব্রিটিশ সরকার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নয় সদস্যের একটি চিকিৎসক দলকে ঢাকায় পাঠায়। গত ৯ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছায় ব্রিটিশ চিকিৎসক দল। তারা কেবল আহত রোগীদের চিকিৎসায় করছে না, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা তৈরিতেও সহায়তা করছে। আগামী ২৪ আগস্ট ঢাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম শেষ করে দলটি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবে। মাইলস্টোন দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত ও চীনের পর যুক্তরাজ্য হলো চতুর্থ দেশ যারা চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ। এত দ্রুত সবকিছু জোগাড় করে এগিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য সহজ ছিল না। এটি সামলানোর মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা আমাদের ছিল না, তাই আমরা বেশ বিপাকে পড়েছিলাম। আপনারা রোগীর শরীরে হাত দেওয়ার আগেই আপনাদের উপস্থিতি জাতিকে সান্ত্বনা দিয়েছিল। আমরা ভীষণ খুশি যে ঠিক সময়ে আপনারা আসতে পেরেছেন, আর সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সফরটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ব্রিটিশ চিকিৎসক দলের আগমন জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, চিকিৎসা প্রোটোকল প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির চিকিৎসক ও কর্মীরা ব্রিটিশ দলের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করুক এবং তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিক। আহতদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে ব্রিটিশ দলকে ফলো-আপ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একজন ব্রিটিশ চিকিৎসক বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের যন্ত্রণা অনুভব করি। আমরা শুধু রোগীদের নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।
এ সময় স্বাস্থ্য উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির পরিচালক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারা কুকসহ অন্যান্যরা।




