সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থান, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি অর্জনে কারিগরি প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মিরপুরে ইউসেপ কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ড. ওবায়দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান, ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবদুল করিম। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, ইউসেপ কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। উপদেষ্টা ইউসেপ কমপ্লেক্সে কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত কেয়ারগিভিং, জাপানি ভাষা এবং গ্রাফিক ডিজাইন কোর্স পরিদর্শন করেন এবং ইউসেপ বাংলাদেশের উইমেন্স কর্নারের উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, এ কর্মসূচি শুধু প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অংশগ্রহণকারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত করবে।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, ইউসেপ বাংলাদেশের এই উদ্যোগ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের জন্য একটি মাইলফলক। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের শুধু কর্মসংস্থান নয় বরং মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় অগ্রগতিতে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা সাম্যের স্বপ্ন দেখি, গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি। ৭১, ৯১, ২৪ এর আন্দোলনে বারবার যেখানে মানুষ স্বপ্নের কথা বলেছে, কিন্তু স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে পারিনি, আমরা গণতন্ত্র পাইনি। ২৪ এর আন্দোলন এই দেশের যখন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার। ৭১ এর পরে আমরা যা পারিনি, ২৪ এর পরে সেটাই করতে হবে। ২৪ এর চেতনাকে বাস্তবায়নের রূপ দিতে চাই। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি দেশ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে সেই দেশের মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।
বয়সে তরুণ জুলাই যোদ্ধাদের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাচ্চাদের অনেক দাবি আছে, আমি জানি। কিন্তু এ সব দাবি এই সরকার পূরণ করতে পারবে না। এই অল্প সময়ে এটা হবে না। কিন্তু যেটা হতে পারে, আমরা বিবেককে নাড়া দিতে পারি। চুরি কিছুটা বন্ধ করতে পারি। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা আমরা কিছু নিয়ে আসতে পারি ফেরত। কিন্তু এই পরিবর্তন ধরে রাখবে কে? যারা সত্যিকার অর্থেই দেশকে ভালোবেসে সমস্ত অনিয়ম দুর্নীতি রুখে দিতে পারবে। একাত্তরের পর আমাদের বীরযোদ্ধাদের আমরা শূন্য হাতে গ্রামে ফেরত পাঠিয়েছি। চব্বিশে আমরা চাই আমাদের প্রতিটি ছেলেমেয়ে, কেউ যেন খালি হাতে না ফেরত যায়। লেখাপড়ায়, কাজে, দক্ষতায় তারা যেন বেড়ে ওঠে, এমন সমাজ যেন আমরা গড়তে পারি। সরকারের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়, আমাদের আসার এক বছর হয়েছে। এই এক বছরে অনেক গভীর শিক্ষা এবং উপলব্ধিতে পৌঁছেছি। সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা হচ্ছে, সরকার হলেই, সরকার সব পারে না এবং রাষ্ট্র কখনো একা দেশ গড়ে তুলতে পারে না। একটি দেশ যদি পৃথিবীর বুকে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তাহলে সেই দেশের মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউসেপ বাংলাদেশ জুলাই আন্দোলনে আহত এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের গাড়ি চালনা, গ্রাফিকস ডিজাইন, বিউটিফিকেশনসহ ৪০টি বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জনকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়বে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ইউসেপ সেন্টারে গিয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর যে কেউ তিন মাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।




