প্রথমবারের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’। ইতিমধ্যে কমিটি গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কমিটির আহ্বায়কসহ একাধিক পদে ক্যাম্পাসের বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে ইবিতে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা।
জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিও রয়েছে। তবে এবার বৈবিছাআর একটি অংশ ও অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় ছাত্রশক্তির কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিভি যাচাই–বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে কমিটির আহ্বায়ক পদে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসানের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে মিছিল–মিটিং করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জুলাই আন্দোলনের পর তাঁকে আবাসিক হল থেকে বের করে দেন শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া কমিটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের নামও শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি মাদকসদৃশ দ্রব্য সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে দৈনিক মজুরিতে কাজ না করেও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ক্যাম্পাসের এক সাংবাদিকও কমিটিতে আসার চেষ্টা করছেন।
বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের গুঞ্জনে ফেসবুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শ লেখেন, ‘ফ্যাসিস্টের দোসর ফুয়াদ হাসান ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আজিজ হল ইন্টারন্যাশনালের এক ব্লক দখল করে ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাকে হল থেকে বের করে দেয়। এই গণহত্যাকারীর দোসর জুনিয়ররা প্রোগ্রামে না গেলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। ফুয়াদ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করেছে। এমনও আছে যে, সে ছাত্রলীগের ক্যাডার হিসেবে তার বাসায় যেতে পরিবহন ভাড়া দিত না। এখন ইবিতে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের সহকারে কমিটি আনতে চাচ্ছে এবং তার সঙ্গে আছে এক সুশীল সাংবাদিক—পূর্বে বৈবিছাআ, এত দিন ছাত্রদল আর এখন ছাত্রলীগ ও ছাত্রশক্তিকে চাটে।’
ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘ছাত্রশক্তির কমিটিতে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা চাই, কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের যেন রাখা না হয়। আমরা ক্যাম্পাসে একটি সহাবস্থানের রাজনীতি চাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা হাসিব আল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, ‘কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের বাছাই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। ফুয়াদ পূর্বে যদিও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থেকে থাকে, কিন্তু সে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। তা ছাড়া আমরা আমাদের মতো কমিটি দেব। সে ক্ষেত্রে অন্যদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’




