ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সিলেট-৫ আসনের একটা জরিপ আমি আমার নিজের উদ্যোগে শেষ করলাম। এই আসনে মূল লড়াই কমবেশি হচ্ছে ত্রিমুখী।
একদিকে যেমন দুই জোটের প্রার্থী রয়েছেন, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনী সমীকরণ তৈরি করছেন। প্রার্থীরা হলেন; বিএনপি-জমিয়ত জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি
শায়খুলহাদিস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, প্রতীক খেজুরগাছ। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান, প্রতীক দেয়ালঘড়ি। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), প্রতীক ফুটবল।
১. জকিগঞ্জ উপজেলার জরিপের ফলাফল
জকিগঞ্জের ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ভোটারদের ঝোঁক বিভিন্ন দিকে বিভক্ত। যেমন; বারোহাল ইউনিয়নে ৩৫ হাজার ভোটের সিংহভাগ খেজুরগাছ প্রতীকের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা। দ্বিতীয় অবস্থানে দেয়ালঘড়ি এবং তৃতীয় ফুটবল।
বারোটাকুরী ইউনিয়নে পারিবারিক সম্পর্কের কারণে (মাওলানা মুকাদ্দিস আলী প্রার্থী মাওলানা ফারুক সাহেবের বেয়াই) এখানে খেজুরগাছ শক্তিশালী অবস্থানে। দ্বিতীয় দেয়ালঘড়ি। তৃতীয় অল্পভোটে ফুটবল। কসকনকপুর ও মানিকপুর এই দুই ইউনিয়নেই খেজুরগাছ প্রথম অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা। মানিকপুরে ফুটবলের অবস্থান দ্বিতীয় হতে পারে। কসকনকপুরে দ্বিতীয় দেয়ালঘড়ি। জকিগঞ্জ পৌরসভা ও বিরশ্রী ইউনিয়নে লড়াই হবে সমানে সমান। পৌরসভায় খেজুরগাছ ও দেয়ালঘড়ির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খলাছড়া ইউনিয়নে দেয়ালঘড়ি এগিয়ে থাকতে পারে। কাজল শাহ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীক প্রথম স্থানে থাকতে পারে।
২. কানাইঘাট উপজেলার জরিপের ফলাফল
কানাইঘাটের ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় জোটবদ্ধ ও স্থানীয় ইমেজের প্রভাব বেশি। পৌরসভা ও লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নে খেজুরগাছ এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। দ্বিতীয় অবস্থানে দেয়ালঘড়ি। দক্ষিণ বানীগ্রাম মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও চাকসু মামুনের নিজস্ব এলাকা। এখানে খেজুরগাছ ও ফুটবলের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে, তবে দলীয় সাংগঠনিক শক্তির কারণে খেজুরগাছ শেষ হাসি হাসতে পারে।
রাজাগঞ্জ ও জিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে রাজাগঞ্জে খেজুরগাছ বেশ ব্যবধানে এগিয়ে। তবে জিঙ্গাবাড়ীতে দেয়ালঘড়ির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
সার্বিক পর্যবেক্ষণ বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে বিএনপি জোটগতভাবে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দিলেও স্থানীয় একটি ছোট অংশ চাকসু মামুনের (ফুটবল) পক্ষে গোপনে কাজ করছেন বলে জানা যায়। ওরা মূলত খেজুরগাছের ভোটে কিছুটা ভাগ বসাতে পারে। তবে তা খুব প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস দল থেকে বহিস্কৃত মামুন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে নির্বাচনে দাড়িয়ে নিজের ক্ষতি করেছেন।
এদিকে আলেম সমাজ ও ধর্মীয় ভোটগুলোও প্রধান দুজন প্রার্থীই মাওলানা ফারুক ও মাওলানা হাসানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় দুজনেরই ক্ষতি হবে। এই আসনে আলেমদের ভোট প্রধান ফ্যাক্টর। এখানে আল্লামা ফুলতলি (র.) এর অনুসারীদের ভোট একটি ফ্যাক্টর। তবে মানুষের ধারণা এই গ্রুপের ভোট শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জমিয়ত জোটের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সাহেবের পক্ষেই থাকবে। কারণ, এই গ্রুপ আকিদার কারণে জামায়াত জোটে ভোট দিতে যাবে বলে মনে হয় না। ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে জেনারেশন-জেড বা তরুণ ভোটারদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের কাছে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ইমেজ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
মোটকথা আমার জরিপ অনুযায়ী, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের অধিকাংশ ইউনিয়নেই বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুরগাছ প্রতীক বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলে এই জরিপ তৈরি করা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে সঠিক তথ্যের কাছাকাছি পৌঁছতে। আপনার দ্বি-মত আপনি প্রকাশ করতে পারেন মন্তব্য বক্সে। ফলাফল বুঝা যাবে ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সকালে।



