পছন্দের প্রার্থীর জয়ে পায়েস রান্না করেছিলেন তারাফুল খাতুন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তালাক দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থক স্বামী সইবুর রহমান। ঘটনাটি ঘটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার শেখটোলা গ্রামে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।
দীর্ঘ ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবন, তিন সন্তান এবং অসংখ্য সুখ-দুঃখের স্মৃতি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে সইবুর এই কঠোর সিদ্ধান্তের ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছের। ভুক্তভোগী তারাফুল খাতুন একই উপজেলার পনের রশিয়া গ্রামের লোকমান আলীর মেয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন দশক আগে সইবুর রহমানের সঙ্গে তারাফুলের বিয়ে হয়। সইবুর রহমান বিএনপির একজন কট্টর সমর্থক হলেও তারাফুল খাতুন ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির প্রতি অনুরাগী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় সইবুরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ঠিক সেই মুহূর্তেই নির্বাচনের পরের দিন জামায়াত প্রার্থীর বিজয় উদযাপনে তারাফুল বাড়িতে পায়েস রান্না করেন। এই মিষ্টি মুখ করানোই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। ক্ষিপ্ত স্বামী সইবুর রহমান রাগের মাথায় স্ত্রীকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে তারাফুল তার ননদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
সইবুর অবশ্য পরে নিজের ভুল স্বীকার করে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইলেও তারাফুল তার সিদ্ধান্তে অটল। তার স্পষ্ট কথা, ‘ভোট নাগরিক অধিকার। এতে হস্তক্ষেপ করে স্বামী যে আচরণ করেছেন, তাতে আমি আর তার সংসার করব না। আমি এই অপমানের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিবগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. সৈবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে এমন তালাক অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সামাজিকভাবে সমাধান না হলে তারাফুলের নামে কেনা এক কাঠা জমিতে তার থাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




