কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মৌলভীবাজার-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক। সেই সঙ্গে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সদর উপজেলার কয়েক হাজার গ্রাহক।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নে এই কালবৈশাখী আঘাত হানে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের কনকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বড় একটি গাছ ও পল্লী বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি আড়াআড়িভাবে পড়ে আছে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
দুর্ভোগের শিকার যাত্রী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে সিলেট যাচ্ছিলাম। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাস্তায় আটকা পড়ে আছি। এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হবে, এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত অর্থও গুনতে হচ্ছে।’
আটকা পড়া ট্রাকচালক শফিক মিয়া বলেন, ‘সিলেট থেকে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে শ্রীমঙ্গল যাচ্ছিলাম। মধ্যরাত থেকেই রাস্তার ওপর গাছ ও খুঁটি পড়ে থাকায় গাড়ি নিয়ে আটকা পড়ে আছি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার না করলে আমাদের মতো পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় কনকপুর, শেরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কালবৈশাখীতে জেলার অসংখ্য স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের কর্মীরা কনকপুরে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ লাইন মেরামত ও সড়ক থেকে গাছ-খুঁটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।




