পুরো নাম ফাহিম আল ইসহাক চৌধুরী। যাকে আমি ফাহিম ভাই বলেই ডাকি।
ফাহিম ভাই বৃটেনে ও মধ্যপ্রাচ্যের একজন বিজনেস টাইকুন। বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবসা তার। কয়েকদিন পর পরই দামী দামী ব্রান্ডের গাড়ি পাল্টান। নিজে ডিজাইন করে আনেন ফেরারী, পোর্সের মতো গাড়ি। চলেন আলিশান স্টাইলে। এ রকম মানুষকে রিচ করা সম্ভব হয় না। দূর থেকেই তাদের কার্যক্রম দেখতে হয়।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ফাহিম আল চৌধুরী। প্রতিদিন তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্হানে বড় বড় বিজনেসম্যানদের সাথে ডিল করলেও ভুলে যান নি প্রিয় দেশ ও দেশের মাটির কথা। দেশ মাতৃকার টান তাঁর ভিতরে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। দেশের অসহায় মানুষের কষ্ট তার হৃদয়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেয়। মানুষকে সাহায্যের জন্য তার হাত নিশপিশ করে। অসহায় দু:খী মানুষের কষ্টে তিনি নিজে ব্যথিত হন। নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না। বাড়িয়ে দেন মানবতার হাত।
ফাহিম ভাইকে ফেসবুকে ফলো করছি বেশ কয়েক দিন থেকে। বিশেষ করে তার মানবতাধর্মী কাজ আমাকে বেশ আন্দোলিত করতো। মনে মনে ভাবতাম এতো আরাম আয়েশে থেকে, এতো প্রভাব প্রতিপত্তির মাঝে থেকে ও কিভাবে একজন মানুষ হতদরিদ্র আরেক মানুষের কথা চিন্তা করতে পারে? ইসলামিক অনুশাসনের প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এই মানুষের বুকের ভিতরে যে মানুষের জন্য কাজ করার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা তা দেখতে পাই তার নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।
যেহেতু চ্যানেল এস আরএফসি’র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অসহায় দরিদ্র নিপিরীত মানুষের কল্যানে কাজ করে তাই আরএফসি’র ব্যপারে কথা বলতে একদিন ফোন দেই ফাহিম ভাইকে। আমি কথা বলার পর ফারহান মাসুদ খান ভাইকে বলি কথা বলতে। তিনি ফারহান ভাইয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত যেনে উৎসাহ দেখালেন যেহেতু মানব সেবার করা যাবে। এর কিছুদিন পর বার্মিংহামে আরএফসি’র প্রস্তুতি সভায় এসেই ১৫ হাজার পাউন্ড দান করলেন। হলেন ব্রান্ড এম্বাসেডর। নরমালি এরকম দান যারাই করেন তাদের জন্য ৫/৭ মিনিটের ডকুমেন্টারি তৈরী করা হয়। তিনি লাইন লাইটে আসতে চাইলেন না।

কোন ডকুমেন্টারি ও তৈরী হলো না। শুধু আমার পিড়াপিড়িতে নিউজের জন্য একটা ইন্টারভিউ দিতে রাজি হলেন। অথচ আমাদের কমিউনিটিতে কিছু দান করলেই যেখানে প্রচারের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয় সেখানে এতো সুযোগ থাকার পরও তিনি নিজেকে জাহির করতে চান নি। তার এই দিকটি আমার ভীষণ ভালো লাগলো। এর দ’তিন দিন পরই তিনি একাউন্ট ডিটেইলস নিয়ে পুরো ১৫ হাজার পাউন্ড এক সাথেই আরএফসি একাউন্টে ট্রান্সফার করে দিলেন। তাকে বলা হলো এখন না দিয়ে রোজা মাসে দেবার জন্য। তিনি উত্তরে বলেছিলে, ‘রোজা মাস পর্যন্ত যে আমি বেঁচে থাকবো তার গ্যারান্টি কী আমাকে আপনি দিতে পারবেন?’ মহান আল্লাহর উপর কতোটুকু বিশ্বাস থাকলে এভাবে কেউ চিন্তা করতে পারে!!!
এর কিছুদিন পর সিলেটের এমসি কলেজ পড়ুয়া ক্যান্সার আক্রান্ত একজন মেয়ের চিকিৎসা সহায়তায়র জন্য একটি গ্রুপে ফাহিম ভাইকে এড করেছিলাম। যেহেতু আবারো মানবতার কাজ তিনি কল দিলেন এবং বললেন এক লাখ টাকা দিবেন। ফোনে যখন জানতে পারলেন আমার আত্মীয় সাথে সাথেই বললেন তাহলে দুই লাখ টাকা দেই? আমাকেই জিজ্ঞেস করছেন হবে কি না?! আমি যদি তখন বলতাম ভাই ৫ লাখ দেন আমার বিশ্বাস তিনি ৫ লাখই দিতেন। আমি সাথে সাথেই বললাম অবশ্যই হবে ভাই। তিনিই প্রথম সহায়তা দানকারী সেই মহতি উদ্যোগের এবং মুহুর্তে ২ লাখ টাকা ট্রান্সফার করেই গ্রুপ থেকে বের হয়ে গেলেন। আমার প্রতি বিশ্বাস থাকায় তিনি আর জানতে ও চান নি। সেই উদ্যোগে আমি ৫ দিনে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলাম সেই ক্যান্সার আক্রান্ত মেয়ের জন্য। পরে তাকেও আপডেট জানিয়েছিলাম টেক্সটের মাধ্যমে।
ফাহিম ভাই কী এক অদ্ভুত কারনে আমাকে ভীষণ পছন্দ করেন। হয়তো তার আশপাশে যারা থাকেন অনেকেই নানা সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেন, আমি হয়তো সুবিধা নেইনি বা অকারণে কোন যোগাযোগের চেষ্টা করিনি এজন্য অথবা অন্য কোন কারন থাকতে পারে ঠিক জানি না।

তবে ফাহিম ভাইকে হৃদয় থেকে শ্রদ্ধা করা শুরু করি যখন দেখি নিজের সমূহ বিপদ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের জীবনের মায়া বা সম্পদের মায়া ত্যাগ করে জুলাই অগাস্ট আন্দোলনে ভূমিকা রাখা শুরু করেছেন। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনে অসহায় ছাত্রদের পাশে ছায়া হয়ে কাজ করেছিলেন। যেহেতু সে সময় আমি নিজেও অনেক এক্টিভ ছিলাম লেখালেখিতে ছাত্রদের পক্ষে তাই তার সবগুলো কাজ সুক্ষভাবে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো। তার একেকটি স্ট্যটাস স্বৈরাচারী শাসকের মসনদ কাপিয়ে দিয়েছিলো। শুধু স্ট্যাটাস দিয়েই তিনি বসে থাকেন নি, তার দেশী বিদেশী লিংক ব্যবহার করে ছাত্রদের দাবী প্রতিষ্টায় কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। তার কিছু মুভমেন্টের কারনে আন্দোলনে গতি পায়। সেই সাথে দু’হাত খুলে আন্দোলনকারী ছাত্রদের অর্থসহায়তা করতে থাকেন। এতো কিছু করার পরও তিনি লাইন লাইটে আসতে চান নি। কাজ করে গেছেন নীরবে, নিবৃত্তে। একমাত্র দেশের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে।
ফাহিম আল চৌধুরী একজন নিরেট খাঁটি দেশ প্রেমিক মানুষ। তিনি কাজ করেন মানবতা ও মানুষের কল্যনে। তার এ কাজ অব্যাহত থাকুক। মহান আল্লাহ তাকে মানুষের কল্যানে কাজ করা আরো বেশী সুযোগ করে দিন। আমিন।
মোহাম্মদ আতিকুর রহমান : রিপোর্টার, চ্যানেল এস ইউকে; বার্তা সম্পাদক, বাংলা মেইল; অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি, বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম মিডল্যান্ডস; সদস্য: লন্ডন বাংলা প্রেসক্লা




