বাংলা মেইলের ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের গোপনীয়তা নীতি ও ব্যবহারের শর্তাবলি মেনে চলুন।
এক্সেপ্ট
বাংলা মেইল | Bangla Mailবাংলা মেইল | Bangla Mailবাংলা মেইল | Bangla Mail
  • প্রচ্ছদ
  • বার্মিংহাম সংবাদ
  • বাংলাদেশ
    • ঢাকা
    • সিলেট
    • চট্টগ্রাম
    • রংপুর
    • বরিশাল
    • রাজশাহী
    • খুলনা
    • ময়মনসিংহ
    বাংলাদেশআরও দেখুন
    সিলেটে সাতকড়া দিয়ে গরুর মাংস খেলেন প্রধানমন্ত্রী

    এক দিনের সিলেট সফরে এসে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও…

    নিজাম উদ্দিন টিপু। সিলেট প্রতিনিধি
    নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছে ‘আদর্শ দম্পতি’র ছবি

    সিলেটে তারেক-জুবায়ইদা

    নিজাম উদ্দিন টিপু। সিলেট প্রতিনিধি
    ধানে গজিয়েছে চারা, ক্ষতির মুখে হাওরাঞ্চলের কৃষক

    টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। হাওর থেকে ধান…

    জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া
    ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ঝড়ে ওয়াস ব্লকে আশ্রয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

    কালবৈশাখী ঝড়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ একাডেমিক ভবন ছেড়ে বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লকে আশ্রয় নিতে…

    মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল। কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
    লাউয়াছড়ায় কালবৈশাখীর তান্ডবে গাছ উপড়ে বন্ধ কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক

    মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে একাধিক বিশালাকায় গাছ…

    জায়েদ আহমেদ। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • রাজনীতি
    রাজনীতি
    আরও দেখুন
    শীর্ষ সংবাদ
    নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি করছে ইসলামি সমমনারা
    আগস্ট ২৭, ২০২৫
    এনসিপিকে নিয়ে বিএনপি কেন ‘অস্বস্তিতে’, যা বললেন রুমিন
    মার্চ ১১, ২০২৫
    যার এজেন্ডায় আওয়ামী লীগের বিচার, নিষিদ্ধ করা নেই, তার সঙ্গে আমরাও নেই : হাসনাত
    যার এজেন্ডায় আওয়ামী লীগের বিচার, নিষিদ্ধ করা নেই, তার সঙ্গে আমরাও নেই : হাসনাত
    মে ৮, ২০২৫
    সর্বশেষ সংবাদ
    বন্ধ সব কারখানা চালু হবে, খুলবে বিদেশের শ্রমবাজার
    মে ২, ২০২৬
    সিলেটে আইটি পার্ক সচল ও ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
    মে ২, ২০২৬
    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বৈষম্যের অভিযোগ আরিফুল হক চৌধুরীর
    মে ২, ২০২৬
    রাত পোহালেই আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুত সিলেট
    মে ১, ২০২৬
  • আন্তর্জাতিক
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • কানাডা
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • যুক্তরাজ্য
  • কমিউনিটি সংবাদ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলাধুলা
  • সম্পাদকীয়
  • শিল্প-সাহিত্য
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • গল্প
    • ছড়া
  • ভিডিও সংবাদ
  • ছবি
  • বিনোদন
  • স্বাস্থ্য-জীবনযাপন
  • সংবাদ পাঠানোর নিয়মাবলি
  • গোপনীয়তা নীতি
  • ব্যবহারের শর্তাবলি
পড়ছেন হাইকোর্টের যে রায়কে ঘিরে আন্দোলনে হাসিনার পতন ঘটে
Font Resizerঅআ
Font Resizerঅআ
বাংলা মেইল | Bangla Mailবাংলা মেইল | Bangla Mail
  • প্রচ্ছদ
  • বার্মিংহাম সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • কমিউনিটি সংবাদ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলাধুলা
  • প্রচ্ছদ
  • বার্মিংহাম সংবাদ
  • বাংলাদেশ
    • ঢাকা
    • সিলেট
    • চট্টগ্রাম
    • রংপুর
    • বরিশাল
    • রাজশাহী
    • খুলনা
    • ময়মনসিংহ
  • রাজনীতি
  • আন্তর্জাতিক
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • কানাডা
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • যুক্তরাজ্য
  • কমিউনিটি সংবাদ
  • মতামত
  • ইসলাম
  • খেলাধুলা
ফলো করুন
স্বত্ব © ২০২৫ বাংলা মেইল
Ad imageAd image
জাতীয়

হাইকোর্টের যে রায়কে ঘিরে আন্দোলনে হাসিনার পতন ঘটে

বাংলা মেইল ডেস্ক
বাংলা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৫
শেয়ার
Ad imageAd image

এখন থেকে ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ গত বছরের পাঁচই জুন হাইকোর্ট যখন সরকারি চাকরিতে কোটা বহালের পক্ষে রায় ঘোষণা করেছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ তখন ধারণাও করতে পারেনি যে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে তাদের টানা দেড় দশকের শাসনের পতন ঘটে যাবে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেই বিবিসি’র কাছে সে কথা স্বীকার করেছিলেন। ৫ অগাস্টের পর বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের কেউ ভাবেনি এই সহিংস আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার উৎখাতের দিকে গড়াবে।

আরও পড়ুন

বেরোবিতে ভিসি-রেজিস্ট্রার দ্বন্দ্বে উত্তাল, শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শুটার ফয়সালদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন

হাইকোর্টের রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথমদিকে তাদের দাবিকে সেভাবে আমলে নেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু মাসখানেকের মধ্যে আন্দোলন বড় আকার ধারণ করতে শুরু করলে তারা বল প্রয়োগের পথে হাঁটেন।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদে পরদিন বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা মাঠে নামলে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তিন জেলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন, যার মধ্যে রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইন্টারনেট বন্ধ, এমনকি কারফিউ জারির মাধ্যমে সেনা মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি তৎকালীন সরকার।

উপরন্তু আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একের পর এক হামলা ও নির্বিচার গুলিতে শিশুসহ অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় ফুঁসে ওঠে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এ অবস্থায় তেসরা অগাস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশে সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ ঘটনার একদিন পর শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ ঢাকার রাজপথে নেমে আসলে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু হাইকোর্টের যেই রায়কে কেন্দ্র করে এতকিছু ঘটে গেল, সেই রায়ে আসলে কী বলা হয়েছিল?

কী ছিল রায়ে?
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করে সরকার যে পরিপত্র জারি করেছিল, সেটি মেনে নিতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একটি অংশ। কোটা সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য বিক্ষুব্ধদের কয়েকজন ২০২১ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। সেই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের পাঁচই জুন রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের দুই বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের এবং খিজির হায়াতের বেঞ্চ। রায়ে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করে সরকার যে পরিপত্র জারি করেছিল, সেটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর ফলে সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতোই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে বলে তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন রিট আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তবে এই রায়ের ফলে মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি অন্য কোটাগুলোও ফিরবে কি-না, শুরুতে সে বিষয়টি পরিষ্কার ছিল না। ৫ জুনের রায়ের পর বলেছিলেন তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না

এ ঘটনার দেড় মাসের মাথায়, অর্থাৎ ১৪ই জুলাই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট। মোট ২৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ে সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করতে বিবাদী, তথা সরকারপক্ষকে নির্দেশ দেয় আদালত। সেইসঙ্গে জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটাও আগের মতো বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে কোটা বিলুপ্ত করার আগে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়াও ১০ শতাংশ জেলা, ১০ শতাংশ নারী, পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা ছিল। তিন মাসের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সবগুলো কোটা ফিরিয়ে এনে পরিপত্র জারি করতে সরকারকে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে কোটার অনুপাত বা হার কমাতে কিংবা বাড়াতে পারবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া রায়ে এটাও বলা হয় যে, সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পূরণ না হলে সাধারণ মেধতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করা যাবে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
২০১৮ সালের আগে বাংলাদেশে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ছিল ৫৬ শতাংশ, যা নিয়ে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সেই অসন্তোষ থেকেই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে আন্দোলন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কয়েক মাসের মধ্যে যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা তখন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন, যাদের অন্যতম দাবি ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংস্কার। আন্দোলনকারীরা চেয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য যে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হোক।

কিন্তু সেটি না করে ওই বছরের ১১ই এপ্রিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ছয় মাসের মাথায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা রিট আবেদন করলে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেয়। যার ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা ফিরে আসার পথ খুলে যায়। এতে আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন চাকরিপ্রার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

২০২৪ সালের পাঁচই জুন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ কোটা পুনর্বহালের পক্ষে যে রায় ঘোষণা করেছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করে ওইদিন সন্ধ্যাতেই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে ছয়ই জুন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ঘোষণা অনুযায়ী,  ৬ জুন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বড় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কলাভবন, টিএসসি ঘুরে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও তৎকালীন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, এটা আমরা মেনে নেব না। কোটা বাতিলের পরিপত্র অবশ্যই বহাল রাখতে হবে। তারপর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেটা নিতে হবে। তবে কোটা বাতিলের পরিপত্র অবশ্যই বহাল থাকতে হবে। তিনি পরবর্তীতে কোটা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন।

সেদিনের সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এদিকে, কোটা বহালের রায়ের প্রতিবাদে একইদিন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইভাবে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাঠে নামেন। এমন পরিস্থিতিতে নয়ই জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর কিছুদিনের মধ্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ঈদুল আযহার ছুটি শুরু হওয়ায় ২৯ জুন পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

৩৬ দিনে সরকার পতন
পহেলা জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলন দ্রুতগতিতে সারা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে শুরুর দিকে দেশব্যাপী ৬৫ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়ক রাখা হয় ২৩ জন। বাকিরা ছিলেন সহ-সমন্বয়ক। তখন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা কোনো একক নেতৃত্ব, একক মুখপাত্র রাখিনি। আমাদের এখানে যারা সমন্বয়ক আছেন তারা যে কেউ যেকোনো সময় সামনে আসতে পারেন, কথা বলতে পারেন। এখানে কোনো একক নেতৃত্ব নেই আসলে।

নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরবর্তী কয়েক দিন ঢাকা, জগন্নাথ, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে চৌঠা জুলাই কোটার পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ ঘটনার পর কোটা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে সাতই জুলাই সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দাবি না মানা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এ অবস্থায় ১০ই জুলাই কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের রায়ের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে, সাতই অগাস্ট বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ১৪ জুলাই কোটা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এদিন সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরাও (চাকরি) পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি পুতিরা পাবে?…তার মানে হলো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-নাতি-পুতিরা কেউ মেধাবী না, যত রাজাকারের বাচ্চারা-নাতি-পুতিরা হলো মেধাবী, তাই না?

শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সেদিন মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেন ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করার সময় “তুমি কে আমি কে?- রাজাকার রাজাকার’; কে বলেছে কে বলেছে?- স্বৈরাচার স্বৈরাচার” স্লোগান দেন। এ ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই হামলার ঘটনার পরদিন ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে শিক্ষার্থীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। এরমধ্যে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেও পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

১৮ জুলাই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অনেকে নিহত হন। এদিন ঢাকার রামপুরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ঢাকার মেরুল বাড্ডায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে একটি ভবনে অবরোধ করে রাখলে একপর্যায়ে হেলিকপ্টার দিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

এদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৫৬ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা প্রস্তাব দেওয়া হলে সেটিও নাকচ করেন দেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাত নয়টার দিকে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরদিন ঢাকার মিরপুরে মেট্রোরেলের দু’টি স্টেশন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজা, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ১৯ জুলাই সারা দেশে সহিংসতার পর মধ্যরাতে কারফিউ জারি করে সরকার।

পরের এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে নারী, শিশুসহ আরও অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড নিয়ে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করার ঘটনা ঘটতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তেসরা অগাস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ করে সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম। দেশব্যাপী শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন।

এদিকে, শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শুরুতে ছয়ই অগাস্ট ওই কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হলেও পরে সেটি একদিন এগিয়ে পাঁচই অগাস্ট আনা হয়। শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ৫ অগাস্ট লাখো মানুষ ঢাকার রাস্তায় নেমে এলে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

Like this:

Like Loading...
Ad imageAd image
সংবাদটি শেয়ার করুন
ইমেইল লিংক কপি করুন প্রিন্ট
আগের সংবাদ পদ্মা সেতুতে মোবাইল সারচার্জ বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ
পরের সংবাদ ‘আমাকে বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছিল’
মন্তব্য করুন মন্তব্য করুন

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recipe Rating




Ad imageAd image

ইমেইলে আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

মুহূর্তেই আপডেট পেতে ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

জাতীয়বাংলাদেশরাজনীতি

‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নুরজাহান বেগম

বাংলা মেইল ডেস্ক
জাতীয়লিড

মব ভায়োলেন্স আগের চেয়ে অনেক কমে আসছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলা মেইল ডেস্ক
জাতীয়বাংলাদেশ

রাজধানীতে বহুতল ভবনে আগুন

বাংলা মেইল ডেস্ক
জাতীয়বাংলাদেশরাজনীতিসিলেট

সিলেটে তারেক রহমান, করলেন ‎শাহজালালের মাজার জিয়ারত

বাংলা মেইল ডেস্ক
বাংলা মেইল | Bangla Mailবাংলা মেইল | Bangla Mail
ফলো করুন

 সম্পাদক ও প্রকাশক : সৈয়দ নাসির আহমদ  •   স্বত্ব © ২০২৫ বাংলা মেইল    •   আইটি সাপোর্ট The Nawaz   

  • সংবাদ পাঠানোর নিয়মাবলি
  • গোপনীয়তা নীতি
  • ব্যবহারের শর্তাবলি
Welcome Back!

Sign in to your account

Username or Email Address
Password

Lost your password?

%d