কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছে কুমিল্লা। কুমিল্লার মানুষ আত্মনির্ভরশীল। নিজ যোগ্যতায় চাকরি পায়, নিজ যোগ্যতায় নিজেদের মাথাপিছু ইনকাম বেশি। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় কুমিল্লায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সরকারকে বলবো, কুমিল্লার প্রতি নজর দিন। কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণা দিতে হবে।
বুধবার (২৩ জুলাই) বিকালে কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে এনসিপির শোক পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সংগঠক মাজহারুল হানিফসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মাইলস্টোনের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগ আলু পোড়া খেতে এসেছিল। লাশ গুমের গুজব রটিয়ে দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। সরকারকে বলবো লাশ নিয়ে যেহেতু একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সঠিক তথ্য জাতির কাছে পরিষ্কার করতে হবে। বিমান দুর্ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। আওয়ামী লীগের সময় আমরা দেখেছি কুমিল্লায় পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে পবিত্র কোরআন রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয়েছে। আমরা অনেকে ভেবেছি আমাদের লড়াই শেষ হয়ে গেছে; কিন্তু না, আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনারা বিএনপি করেন সমস্যা নেই, জামায়াত করেন সমস্যা নেই, কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য আমরা মেনে নেবো না। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানাতে চাই।

এর আগে, দুপুরে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির পথসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল। অভ্যুত্থানের পর আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগের মতো, আইন শৃঙ্খলাব্যবস্থাও আগের মতো। একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী (উপদেষ্টা) আছে, চেনেন ওনাকে? উনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাই-ব্রাদার কোটায় আসছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। সব সময় বলে আসছি, এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো প্রয়োজন নাই।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে ‘কিছু বোঝেন না’ বলে মন্তব্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, উনার একমাত্র যোগ্যতা উনি গ্রামীণ ব্যাংকে ছিল এবং ড. মুহম্মদ ইউনূসের কাছের মানুষ। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা লইয়া আমরা কী করিব? এবং দুঃখজনক বিষয়, উনি নিজে চিকিৎসা করাইতে সিঙ্গাপুর যায়। আমরা বললে বিড়াল বেজার হয়। উনাকে নিয়ে একবার কথা বলছিলাম, এরপর উনার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না। জনগণ উনাকে যে বেতন দিছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।




