পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না। এই অফিস স্থাপনের বিষয়ে দুই বছর পর রিভিউ করা যাবে। চাইলে ছয় মাসের নোটিশে যেকোনো সময় সরিয়ে দেওয়া যাবে। তবে আমার মনে হয় না, সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমরা তো নিজেদের স্বার্থ দেখে কাজটি করেছি। তাদের প্রস্তাবের পর যে একটি এগ্রিমেন্ট সই করে দিয়েছি এমন নয়, আমরা দীর্ঘ সময় নিয়েছি। আমাদের স্বার্থ যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেটা দেখেই করেছি। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রহ্মপুত্রে চীনের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে বাংলাদেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দলগুলোর উৎস আমাদের দেশে নয়। সেই নদীগুলোর ওপরে অবকাঠামো হয়েছে, হতে থাকবে। আমরা সেটা ঠেকাতে পারব না। দেখতে হবে, এতে করে আমাদের ক্ষতি যাতে না হয়। যদি হয় সেটা যেন খুব সীমিত থাকে। এটা আমাদের চেষ্টা থাকবে। চীনের রাষ্ট্রদূত আমার কাছে এসেছিলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, একটা বাঁধ দিয়ে যে হাইড্রো পাওয়ার তৈরি হয়, এটা তেমন নয়, তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। কয়েক ধাপে পানি ব্যবহার করছেন, এর মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার হবে না বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন। কাজেই এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।
ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি— এ কথা সরকারের কেউ বলেনি
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কোনো কথা কিন্তু কেউ কখনো বলেনি। আমি বা আমার সরকারের ভেতরে কেউ বলেনি। আমরা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গুড ওয়ার্কিং রিলেশান্স চাই। আমাদের এই অবস্থান অটুট আছে। আমরা কিন্তু ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইনি—এ ধরনের কোনো কথা কিন্তু কেউ কখনো বলেনি। আমি বা আমার সরকারের ভেতরে কেউ বলেনি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কার্টেসি আছে, সেগুলো করেছি। এ ঘটনা ঘটার পর (বিমান বিধ্বস্ত) যে দেশগুলো সহায়তা দিতে চেয়েছে তার মধ্যে ভারত একটি। আমরা বার্ন ইউনিটের কাছে তথ্য নিয়েছি, তাদের কী প্রয়োজন, তারা যা জানিয়েছেন— সেগুলো আমরা তাদের (ভারতীয় প্রতিনিধি দল) জানিয়েছি। তাদের দিক থেকে দুইজন ডাক্তার ও নার্স এসেছেন। তাদের যেটুকু সেবা দেওয়ার তারা দেবে। দেখুন, দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ সব সময়ে ভালো। বুধবার সন্ধ্যায় অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসাসেবা দিতে তিন সদস্যের ভারতীয় একটি বিশেষ মেডিকেল টিম ঢাকায় আসে। আমরা কারও সঙ্গে এমন কিছু করিনি যে সম্পর্ক খারাপ হবে। প্রতিবেশির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করার বিষয় ছিল এবং কারও উপরে যে খুব বেশি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা করেছি, এটা নয়। আমাদের স্বার্থ দেখেছি। ভারতের সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভালো কাজের পরিবেশ থাকা দরকার।




