ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) গঠনের দাবিতে ‘মার্চ ফর ইকসু’ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘মুভমেন্ট ফর ইকসু’। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার দুপুরে প্ল্যাটফর্মটির প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইনে ইকসুর কোনো বিধান নেই। তাই ইকসু গঠনের জন্য শিক্ষক ও ছাত্র প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রস্তুত করবে। এরপর সেই খসড়া সিন্ডিকেটে পাস করে ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসি অনুমোদন দিলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে খসড়াটি অর্ডিন্যান্স আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে অন্তর্ভুক্ত হবে। খসড়া ও অর্ডিন্যান্স আকারে পাসের সব প্রক্রিয়া আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। এরপর শিক্ষার্থীরা চাইলে ১৫ দিনের মধ্যে ইকসু নির্বাচনের আয়োজন করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আইনি জটিলতার পাশাপাশি ইকসু গঠনে বাজেট-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজেটে ডাকসুর জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকে, যেখানে প্রত্যেক পদধারীর জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নির্ধারিত। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজেটে এমন কোনো পৃথক বরাদ্দ নেই। ফলে এই অর্থ কাকে এবং কীভাবে দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন একটি লিগ্যাল সত্তা। এই লিগ্যাল সত্তা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় যতদিন থাকবে, ইকসুও ততদিন ধরে স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে।
এ ছাড়া তিনি সাজিদ হত্যা ও জুলাই আন্দোলনকারীদের বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে চালানো ভুয়া পেজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এয়াকুব আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মনজুরুল হক, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং ‘মুভমেন্ট ফর ইকসু’ প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা।
এর আগে গতকাল ইকসু গঠন নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ’ কর্মসূচি পালন করেন মুভমেন্ট ফর ইকসুর প্রতিনিধিরা।





