গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পুরোপুরি ট্রমাটাইজড। তার নাকের হাড় পুরোপুরি ভেঙে গেছে, যে কারণে নাক বাঁকা হয়ে গেছে। তার মস্তিষ্ক পুরোপুরি কাজ করছে না। স্থির হয়ে বসতে ও শুনতে পারছেন না। আমি আজকে সকালে ভিপি নুরকে দেখতে আসি। আমার সামনেই তার নাক দিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত বের হলো। সেখানে ঢাকা মেডিক্যালের পরিচালকসহ আরও অনেক ডাক্তার ছিলেন। আজ চিকিৎসকেরা নুরের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন আমি তাদের ডেকে দেখাই যে, নাক দিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত পড়ছে। ডাক্তাররা সেটির ভিডিও করে নেন। নুর সুস্থ হওয়ার পথে, কিন্তু আসলে তা না, নুরুল হকের এখনও মাড়িতে ব্যথা, চোখের নিচে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। হাঁটতে গেলে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নুরের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, নুরুল হকের চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নুরুল হকের দাঁতের অবস্থা নাজুক। তাঁর মাথার সংবেদনশীল স্থানে গুরুতর আঘাত আছে। গতকাল বুধবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য তাঁকে সাহায্য নিতে হচ্ছে। তাঁর মস্তিষ্কে আঘাতের কারণে মাথা ঘোরাসহ অন্যান্য জটিলতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নুরুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে উড়োজাহাজে তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁরা আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নুরুল হককে দেশের বাইরে নেওয়া হবে। মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর উন্নত চিকিৎসা জরুরি। তাঁরা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন।
নুরুল হককে পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের চেহারা স্পষ্ট দেখা গেলেও এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটা সরকারের জন্য লজ্জার। সরকার শুধু দুঃখ প্রকাশ করে পার পাবে না। হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। তিনি যদি দায়িত্ব নিতে না চান, তবে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে, পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে অনাস্থা থাকায় আদালতের মাধ্যমে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারও একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট। তাঁরা সেনাপ্রধান ও পুলিশের আইজির কাছে অনুরোধ করছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি। রাশেদ খান বলেন, যেভাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একইভাবে জাতীয় পার্টিসহ ফ্যাসিস্ট শক্তির অন্য দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। নুরুল হককে দেখতে ইতিমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর খোঁজ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হন নুর। সে আহত হন রাশেদ খানও। অভিযোগ, দলবল নিয়ে তারা জাপার কার্যালয় দখল করতে গিয়েছিলেন। সেদিন থেকেই গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন নুরুল হক নুর। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। সঙ্গে জাপা নিষিদ্ধের দাবিও তুলেছেন। এদিকে নুরের ওপর হামলার ঘটনা যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি ডাকসুর সাবেক এই ভিপিকে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




