ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১১ দলের মধ্যে টানাপোড়েন এখনও স্পষ্ট। আসন সমঝোতা নিয়ে কালক্ষেপণে তৃণমূলে বাড়ছে অস্থিরতা, হতাশা। সিলেটের ৬টি আসনে ১১ দলের মধ্যে পাঁচটি দলের প্রার্থী রয়েছেন ১৭ জন। এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ছয়টি, খেলাফত মজলিস পাঁচটি, ইসলামী আন্দোলন চারটি, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
১১ দলের শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলে সিলেটের ৬টি আসনের সমঝোতার একটি আভাস পাওয়া গেছে। সমঝোতার ভিত্তিতে ৩টিতে জামায়াতে ইসলামী ও ৩টি আসনে শরীকদের প্রার্থী থাকার ব্যাপারটি ‘প্রায় নিশ্চিত’। শরীকদের মধ্যে খেলাফত মজলিস ২টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি আসন পেতে পারে।
সমঝোতার বিষয়ে ইসলামি আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যাপক ইউনূস আহমদ বাংলা মেইলকে বলেন, সমঝোতার বিষয়ে আমরা শেষ পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছি। আজ (১২ জানুয়ারি) রাতেও লিয়াজো কমিটির বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বাংলা মেইলকে বলেন, সমঝোতার ব্যাপারে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিগগিরই সেটার ঘোষণা আসতে পারে।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, সমঝোতা নিয়ে দরকষাকষি চলছে, যেখানে দরকষাকষি আছে, সেখানে মনকষাকষিও থাকবে। তবে সব কিছুর উর্ধে উঠে জাতির আকাঙ্খার প্রতিফলনে সব দলই সমঝোতার ব্যাপারে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল রয়েছে। কোনো কারণে সব আসনে সমঝোতা না হলে, কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার বিকল্প চিন্তার কথাও জানান তিনি।
সিলেট-১ আসন
সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ১১ দলের প্রার্থী তিনজন। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান। এই আসনে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের মাওলানা হাবীবুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারটি প্রায় নিশ্চিত।
সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) আকমল হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের শামীম মিয়া ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল।
সিলেট-২ আসন
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনেও ১১ দলের তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল হান্নান ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আমির উদ্দীন। এখানে আসন সমঝোতায় ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনা। অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন গণফোরামের মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকী।
সিলেট-৩
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭জন। এর মধ্যে ১১ দলের প্রার্থী পাঁচজন। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) নুরুল হুদা জুনেদ, খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা রেদওয়ানুল হক চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর লোকমান আহমদ।
সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে ১১ দলের সমঝোতার জন্য এটি বেশ জটিল আসন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থীও এখানে। এই আসনে জামায়াতের লোকমান আহমদ আলোচনায় থাকলেও মনোনয়ন দাখিলের কিছুদিন আগে চমক দেখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি প্রার্থী ঘোষণা করে এই অঞ্চলের প্রভাবশালী আলেম শায়খুল হাদিস নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরীর সন্তান মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুকে। ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা তাই প্রবল।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমএ মালেক। অপর প্রার্থী হচ্ছেন জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান।
সিলেট-৪
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী ৬ জন। ১১ দলের প্রার্থী রয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন, খেলাফত মজলিসের আলী হাসান ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) রাশেদুল আলম। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা প্রবল। মজলিসের প্রার্থী আলী হাসান দলত্যাগ করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সেটি উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম।
সিলেট-৫
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে প্রার্থী পাঁচজন। ১১ দলের প্রার্থী রয়েছেন ২ জন। তারা হলেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা আবুল হাসান ও জামায়াতে ইসলামীর হাফিজ আনওয়ার হুসাইন খান। এই আসন খেলাফত মজলিসের তালিকার অন্যতম অন্যতম অগ্রাধিকার। জামায়াতের প্রার্থীকে এই আসন মজলিসকে ছেড়ে দিতে হতে পারে।
সিলেট-৫ এ ধানের শীষের প্রার্থী নেই। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), বিলাল উদ্দীন নির্বাচন করতে চান বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে। ধর্মপ্রাণ ও আলেম ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবার সম্ভাবনা রয়েছে আলেম-আলেমে।
সিলেট-৬ আসন
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। ১১ দলের মধ্যে শুধু জাময়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এই আসনে প্রার্থী। একক প্রার্থী হিসেবে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত বলা যায়।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও ইমরান আহমদ চৌধুরী। তাদের একজন শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির আব্দুন নূর।





