সিলেটের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে নগরভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সিলেটে এসে তিনি উল্লেখ করেছিলেন—সিলেট থেকে লন্ডন যেতে যেখানে সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা লাগে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১১টি স্থানে জটিলতা থাকায় কাজ আটকে ছিল। ইতোমধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কাজ শেষ হতে সময় লাগলেও শুরু হলে তা সম্পন্ন হবে এবং এতে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে।
সড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলে যানবাহন ও যানজট বাড়বে এবং কৃষিজমি নষ্ট হবে। তাই ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়; রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তারা গ্রাম পর্যায়ে গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করবেন।
শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েও সেগুলো চালু করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের চেষ্টাও চলছে।
আইটি খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি আইটি পার্ক থাকলেও তা কার্যকর নয়। এটি দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়। পাশাপাশি ভোকেশনাল সেন্টারগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে নগরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। সুনামগঞ্জে বন্যার কারণে কৃষকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায় এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হয়।
সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সিলেটে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে পানি দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলগুলোতে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আকৃষ্ট করতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।




