মৌলভীবাজারে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের মধ্যে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বিল্লাল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে নৌ-পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলামকে মৌলভীবাজারের নতুন এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসপি পদমর্যাদার ২৩ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকেও বদলি করা হয়।
এই বদলির প্রজ্ঞাপন আসে একটি আলোচিত ঘটনার পরপরই। এর আগের দিন ‘অনুমোদন ছাড়াই মার্কেট বানালেন মৌলভীবাজারের এসপি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পুরাতন সদর থানার সরকারি জমিতে এসপি বিল্লাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ৯টি কক্ষবিশিষ্ট এই মার্কেটের বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় লিখিত অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ লাইনসের গরু বিক্রি, স্বল্পমূল্যে দুধ সরবরাহ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জন্য চালু ‘আপনার এসপি’ নামে ডিজিটাল সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়। এসব বিষয়ে পুলিশের ভেতরে অসন্তোষ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. বিল্লাল হোসেন দাবি করেন, মার্কেট নির্মাণে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েছিলেন এবং এটি পুলিশের কল্যাণে করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর মৌলভীবাজারে এসপি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বিল্লাল হোসেন। সর্বশেষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার মধ্যে তাঁর বদলির সিদ্ধান্ত আসে।





