টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের কারণে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে অবস্থিত চারটি সেতু কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি সেতুর একপাশে মারাত্মক মাটিক্ষয় হয়েছে, ফলে সেতুর ভিত্তি উন্মুক্ত হয়ে স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, পাশের পাহাড় থেকে নিয়ন্ত্রণহীন পানিপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তিনি বলেন, “পাহাড়ি ঢল সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং চারটি সেতুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসন ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো চাঁদনিচড়া, সাতছড়ি, চাকলাপুঞ্জি ও বেগমখান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু স্থানে আগে যেখানে বাঁধের প্রস্থ ছিল প্রায় ১০ ফুট, তা ভেঙে এখন ৫০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “স্থায়ী সমাধানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাকা গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রয়োজন।”
তিনি সড়ক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, পাহাড় থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
তিনি বলেন, “পাহাড় রক্ষা ও অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন দুর্বল। কঠোর নজরদারি না থাকলে অবকাঠামো ও পরিবেশ—দুটোই ঝুঁকিতে থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, বৃষ্টির সময় এ সড়ক ব্যবহার করতে ভয় লাগে, কারণ যেকোনো সময় সেতু ধসে পড়ে ফসল বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চা শ্রমিক কলটি ঘটুয়াল জানান, বারবার পাহাড়ধসে বাগান প্লাবিত হচ্ছে, ফলে আয়ে প্রভাব পড়ছে।
সিএনজি চালক নুর ইসলাম বলেন, বিশেষ করে রাত বা বৃষ্টির সময় গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবজি বিক্রেতা শফিকুল মিয়া অভিযোগ করেন, বারবার মেরামত করা হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
কলেজছাত্রী সুমি আক্তার বলেন, সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষা ও জরুরি সেবায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে।




