সুনামগঞ্জের ছাতকে টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাওরের অন্তত ২৫ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বছরের একমাত্র ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারগুলোর।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছাতকে এবার মোট ১৪ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৩৮২ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ১১ হাজার ৬১৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ১ মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাওরের ২ হাজার ৫১৩ হেক্টর এবং নন-হাওরের ৩ হাজার ৮৩৩ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৫ হেক্টর জমির পাকা ও আধা-পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, দেখার হাওরের নলুয়া, কপালা ও জলসী অংশে কয়েকশ বিঘা ধান তলিয়ে গেছে। এছাড়া কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়া বিল, ভাতগাঁও, চরমহল্লা, ছৈলা-আফজলাবাদ, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড় ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কালারুকা ইউনিয়নের নৌকাকান্দি গ্রামের কৃষক আলমাছ আলী জানান, তাঁর ১৭ বিঘা জমিসহ গ্রামের অন্য কৃষকদের প্রায় ২০০ বিঘা ধান এখন পানির নিচে। ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আজিদ মিয়া জানান, তাঁর ৭ বিঘা জমির ধানের মধ্যে ৩ বিঘা আধা-পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরমহল্লা ইউনিয়নের কৃষক সুরত মিয়া ও বসন্ত বাবুও তাঁদের কয়েকশ বিঘা ধান নিয়ে শঙ্কিত।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান কাটার প্রস্তুতি নিলেও হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় এবং তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে তাঁরা ধান কাটতে পারছেন না। অনেক হাওরে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থামলেও পানি নামছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহা উদ্দিন শাহি, কালারুকা ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ইব্রাহিম আলী ও যুবদল নেতা ইজাজুল হক রনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ হেক্টর ধান তলিয়ে গেছে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি। ধান ৮০ ভাগ পাকার সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি ও বন্যার আশঙ্কায় ছাতকের কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা এখন দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রকৃতির দিকে চেয়ে আছেন।




