মৌলভীবাজারে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাওর ও উপজেলা মিলিয়ে ২ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষতির ফলে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকেরা। এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলার জুড়ী উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়েছে।
এ ছাড়া বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরে ৬২০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে শ্রীমঙ্গলে ২১৫ হেক্টর এবং কমলগঞ্জে ২৭০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যাকে এ ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আশা ভেঙে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে এ ক্ষতি তাঁদের জন্য চরম আর্থিক সংকট তৈরি করেছে। অনেকেরই আগামী দিনের খাদ্যসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরে দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী তিন মাসের খাদ্যসহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি কমাতে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





