নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১০ নম্বর জীবকায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে অনিয়ম, দখল ও রহস্যজনক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে বিদ্যালয়ের নামে ৪৩ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও এর একটি বড় অংশের বাস্তব অস্তিত্ব মিলছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ জমি বর্তমানে দখলে রয়েছে। আর বাকি ২৩ শতাংশ জমির অবস্থান নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দেখিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। তবে ২০১৩ সালে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর ওই জমির বাস্তব অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দলিলে উল্লেখিত জমির অবস্থান বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। এতে বিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত জমির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
দলিল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের ১০ ডিসেম্বর সম্পাদিত ৮৪৪৭ নম্বর দলিলে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নামে ৩৩ শতাংশ জমি নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে সাবেক দাগ নম্বর ৫৯৬-এর অংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং দাগ নম্বর ৫০০ ও ৫০৮-এর অংশ মিলিয়ে আরও ২৩ শতাংশ জমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, নকশা, খতিয়ান ও রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই জমির প্রকৃত মালিক অন্য ব্যক্তি এবং দলিলে উল্লেখিত অবস্থানের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থানের মিল নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়টি আরএস রেকর্ড অনুযায়ী দাগ নম্বর ১৯১৬ ও ১৯১৭-এ অবস্থিত।
এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভবন অন্যত্র নির্মাণ এবং অন্যের জমি বিদ্যালয়ের নামে দেখিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ তোলা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, “আমি ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়ের নামে দেওয়া ১০ শতাংশ জমির দলিল ছাড়া অন্য কোনো নথিপত্র আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
পরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় তিন ব্যক্তি আরও ১০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। এরপর বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৪৩ শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়।
নরসিংদী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য মনোহরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন, জমি জরিপ বা দখলমুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের হারিয়ে যাওয়া ২৩ শতাংশ জমির অবস্থান শনাক্ত, দখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।





