ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতর থেকে ওঠা পদত্যাগের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ আনতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন এমপি তাকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
তবে স্টারমার শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজন নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
প্রথমেই রয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। লেবার পার্টির ডানপন্থী ঘরানার প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত স্ট্রিটিংকে দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন চাওয়া অংশের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় আরেক আলোচিত নাম অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যাম জনমত জরিপে ব্রিটেনের জনপ্রিয় রাজনীতিকদের একজন। ‘ম্যানচেস্টারিজম’ ধারণার প্রবক্তা হিসেবে তিনি ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার সমন্বয়ের কথা বলে থাকেন। দলীয় নেতৃত্বে সুশৃঙ্খল পরিবর্তন চাওয়া অংশের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।
আলোচনায় রয়েছেনঅ্যাঞ্জেলা রেনার-ও। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী রেনার তার স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তরুণ ভোটার ও সমাজতন্ত্রী কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হওয়া এবং ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে উঠে আসার গল্প তাকে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে।
যদিও স্টারমারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ গড়তে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা এখনো কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে, তবু ব্রিটিশ রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতায় এই তিন নেতাকে ঘিরেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সমীকরণ ঘুরপাক খাচ্ছে।




