বিশ্বকাপ ফুটবল ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে বিবেচিত। সারা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমী বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য চার বছর অধীর আগ্রহে থাকে। সৌভাগ্যবানরা স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ দেখতে পারেন। বাকিদের ভরসা টেলিভিশন।
বিশ্বকাপ দুয়ারে থাকলেও টেলিভিশনে খেলা দেখা নিয়ে অনেক দেশেই জটিলতা চলছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনবহুল দুই দেশ চীন ও ভারতে সম্প্রচার জটিলতা ছিল। চীন গতকাল সেই জটিলতা কাটিয়ে উঠেছে। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান চায়না মিডিয়া গ্রুপ চীনে বিশ্বকাপ প্রচার করবে এটা গতকাল নিশ্চিত হয়েছে। ভারতের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। তেমনি বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।
ফিফার আয়ের অন্যতম খাত বিশ্বকাপ ফুটবলের টিভি স্বত্ব বিক্রয়। বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশ ভেদে অনেক কোম্পানি সেই স্বত্ব ক্রয় করে। ঐ কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে ঐ দেশের টিভি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সেই স্বত্ব বিক্রি করে। এটি উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হয়। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সেই টেন্ডার অংশগ্রহণ করেনি।
বাংলাদেশের টিভি, ডিজিটাল রাইটস ক্রয় করেছে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ‘স্প্রিংবক’। তারা বাংলাদেশে এটি বিক্রি করতে চায় উচ্চ দামে। যা প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি ভ্যাট, ট্যাক্সসহ। এত চড়া দামে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান এটা কিনতে আগ্রহী নয়।
বাংলাদেশে একমাত্র খেলার চ্যানেল টি স্পোর্টস। এই প্রতিষ্ঠানের সিইও ইসতিয়াক সাদেক সিঙ্গাপুরে গিয়ে আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি। কয়েক মাস আগে সম্প্রচার শুরু করা স্টার নিউজও আগ্রহী ছিল তাদের চ্যানেলে খেলা প্রচারের বিষয়ে। উচ্চমূল্য, বিজ্ঞাপনের বাজার কম, অনেক ম্যাচ গভীর রাত কিংবা একেবারে সকালে হওয়ায় দর্শক তুলনামূলক কম পাওয়া যাবে এই সব বিবেচনায় আর কোনো চুক্তি হয়নি।
ফিফা আগে প্রতি দেশের রাষ্ট্রয়ত্ত চ্যানেলকে টেলিস্ট্রেরিয়াল রাইট সরবারহ করত। যেন সেই দেশের সকলে খেলা উপভোগ করতে পারে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে সেই সুযোগ আর নেই। সেটাও কিনতে হয়। ২০২২ সালে টি স্পোর্টস, জিটিভিতে খেলা সম্প্রচার হয়েছিল। পাশাপাশি বিটিভিও উচ্চ মূল্যে খেলার স্বত্ব কিনেছিল। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন টিভি রাইটস কিনে সেটা বিটিভির কাছে বিক্রি করে। অতিরিক্ত মূল্যে কেনায় এটা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে সেই সময়।
বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী বিশ্বকাপ দেখতে চায়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচারের প্রচারস্বত্ব পাওয়ার জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা একটি সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী যেটা ভালো হয় সেটিই করা হবে।’
বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রতি বিশ্বকাপেই খেলা সম্প্রচার করেছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে নাকি উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সম্ভব হচ্ছে না এই বিষয়ে জানতে বিটিভির মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ মাহবুবুল আলমকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
স্পোর্টস মার্কেটিং, টিভি স্বত্ব নিয়ে অনেক দিন থেকে কাজ করেন বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। বিগত বিশ্বকাপে বাংলাদেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান টিভি রাইটস কিনেছিল। এবার বিশ্বকাপ দেখা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন,‘বিশ্বকাপ ফিফার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। ফলে দিনকে দিন টিভি রাইটস অনেক দামে বিক্রি হচ্ছে। এবার এই অঞ্চলের জন্য যারা কিনেছে তারা সেটা অত্যধিক দামে বিক্রি করতে চাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। আবার বাংলাদেশ থেকে যারা কিনতে আগ্রহী তাদের পক্ষে সেটা কেনা কঠিন এবং কিনলেও সেই ব্যয় উঠানো বেশ দুঃসাধ্য। এই রকম পরিস্থিতি বিদ্যমান বর্তমানে। এরপরও বাংলাদেশের সব ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশা সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগ বা যৌথ সমন্বয় হলেও যেন খেলা দেখা যায়।’
বিশ্বকাপ ফুটবল ফিফার ইভেন্ট। তবে বিশ্বকাপ সম্প্রচার ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে ফেডারেশনগুলোর কোনো ভূমিকা থাকে না। বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্যক্তি টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। যিনি ফিফার টেন্ডার পান তিনি ঐ টেরিটরির (অঞ্চল) জন্য সেটা অন্য কোনো মাধ্যমে বিক্রয়ের অধিকার রাখেন। বাংলাদেশ কখনো সরাসরি টেন্ডারে অংশগ্রহণ না করায় অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কিনতে হয়।




