মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, সীমান্ত এলাকায় পাল্টা রকেট নিক্ষেপ, ইরানের রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণ এবং সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩১৩ জন। সর্বশেষ হামলায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রাহাল শহরে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এ ছাড়া সিফরা শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
একই সময়ে লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে সীমান্তবর্তী শহর মেইস আল-জাবালে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর তাদের যোদ্ধারা হামলা চালান। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল-নামিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অভিযানে সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার হাদ্দাতা শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
অন্যদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদকেরা জানিয়েছেন, রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সোমবার দিনভর প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ দিন ইরানের ইসফাহানসহ কয়েকটি বড় শহরও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যাওয়ায় সেখানে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয়েও হামলার খবর মিলেছে। ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদ বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির এম্পটি কোয়ার্টার মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ড্রোনগুলো লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করা হয় এবং গুলি করে নামানো হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।




