বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশে যদি একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়, তবে সেই সরকার অর্থনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে পারবে। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য বারবার নির্যাতন সহ্য করেছেন, অথচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেননি। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান পরীক্ষিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশকে রক্ষা করতে পারবে। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া পরিষদ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত ‘১৫ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম ও ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সভাপতি মো. সুজাউদ্দৌলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জনতা ব্যাংকের পরিচালক মো. ওবায়দুল হক, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি ও দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা লুণ্ঠনের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার দোসররা সীমাহীন লুটপাট করে ব্যাংক সেক্টরকে একেবারেই ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই টাকা ফেরত আনবেন এই প্রতিশ্রুতি বর্তমান সরকারপ্রধান দিয়েছিলেন। এখনও সেই প্রতিশ্রুতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাঁর (ড. মুহাম্মদ ইউনূসের) যে ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে আছে আশা করি তিনি টাকা ফেরত আনতে পারবেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে দুদু বলেন, ভুয়া নির্বাচনের সূচনা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে বিরোধী প্রার্থীদের বিজয় কেঁড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ধারাকে শেখ হাসিনা অব্যাহত রেখেছেন এবং ২০০৮ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মূল বিষয় ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র মানে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান। বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার শামিল। গণহত্যা, ব্যাংক লুটপাট এবং ভোট কারচুপির জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ভালো নির্বাচন তিনি করতে দেননি, ভোট চুরি করেছেন। তাই এই ভোটচুরি, গণহত্যা ও ব্যাংক লুটের জন্য তার ফাঁসি হওয়া উচিত। যেকোনোভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও সাজা কার্যকর করতে হবে।




