বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা যদি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামান্যতম আদর্শও লালন করতাম, তাহলে সমাজে অন্যায়, অনাচার, রক্তপাত, হানাহানি বন্ধ হয়ে যেত। আমরা মুসলমান হলেও আমাদের মহানবীকে আমরা অনুসরণ করি না, অনুকরণ করি না, এটাই হলো বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। যিনি গোত্রে বিভক্ত আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, সেই মহানবীকে আমরা ভুলে গেছি। অথচ তিনি এমন এক সমাধান দিয়েছিলেন, যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছিল। আজকে আমরা মদিনা সনদের কথা বলি, কিন্তু বাস্তবে কিছুই অনুসরণ করি না। আজকে আমি শুধু বলব, যিনি আল্লাহর বাণী নিয়ে এসেছিলেন, তার জীবন থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি। তাহলে আমাদের সমাজে দুর্নীতি, লোভ, হিংসা দূর হবে। আমরা সৎভাবে বাঁচতে পারব, শান্তি ফিরে আসবে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বের) রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দফতর সংযুক্ত) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘কথায় বলেছিলেন দেশ মদিনা সনদ অনুযায়ী চালাবেন, কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এক মন্ত্রীর লন্ডনে ১৪০টা বাড়ি, ছেলেমেয়ের নামে পূর্বাচলে ৬০ কাঠা জমি, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের পাশে ৭২ বিঘা সরকারি জমি নিয়ে ৩০টি বাংলো নির্মাণের পরিকল্পনা। অথচ গরিব মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। করোনার সময় অক্সিজেনের অভাবে প্রাণ গেছে অসংখ্য মানুষের। আমাদের নেত্রী দেশেই থাকেন। মিথ্যা মামলায় পাঁচ-ছয় বছর কারাভোগ করেছেন। আমরা কোনো বিদেশপন্থি দল নই, আমরা বাংলাদেশপন্থি দল— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আপনারা আমাদের ভারতপন্থি বলেন, অথচ ৫ আগস্টের পরে আমরা দেখলাম আপনারাই ভারতের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের দাবি করলেন। ৭১ সালে যখন জাতি স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, তখন আপনারা পাকিস্তানি হানাদারদের সমর্থন করেছিলেন।’
তিনি বলেন, দেশের ভেতরে গভীর একটি চক্রান্ত চলছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বলা হয় আমরা পাকিস্তানপন্থি, আমরা ইসলামি জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিই। এসব অপপ্রচার চলতে থাকে কিন্তু এসব বলার পরেও তারা একবারও তা প্রমাণ করতে পারেনি। আজকে আবার সেই ষড়যন্ত্র চলছে কিনা, সেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। মাজার ভাঙা, লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য ঘটনা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ হতে পারে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।




