ইস্টার ছুটিকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের মতো বার্মিংহামেও সড়কে নেমেছে মানুষের ঢল। দীর্ঘ ছুটির আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর থেকেই শহরটির বিভিন্ন সড়ক ও জ্বালানি স্টেশনে বাড়তে থাকে চাপ। বিশেষ করে নেচেলস এলাকায় কস্টকো পেট্রল স্টেশনে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, যেখানে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় চালকদের ভিড় জমে। সেখানে প্রতি লিটার আনলেডেড পেট্রল ১৪৬.৯ পেন্স এবং ডিজেল ১৭৬.৯ পেন্স দামে বিক্রি হচ্ছিল, যা শহরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় কম।
ইস্টার উপলক্ষে সড়কপথে ব্যাপক যাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির মোটরিং সংস্থাগুলো। অটোমোবাইল সংস্থা এএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একদিনেই প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ যাত্রা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে আরএসি বলছে, ২০২২ সালের পর এবারই ইস্টারের সময় সড়কে সবচেয়ে বেশি যান চলাচল হতে পারে। ফলে বার্মিংহামসহ প্রধান নগরীগুলোতে যানজটের আশঙ্কা বেড়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও মানুষ ভ্রমণে বের হচ্ছেন। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গত এক মাসে যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ১৮৪.২ পেন্স, যা ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে পেট্রলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৫৩.৭ পেন্স হয়েছে, যা ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। তবু ছুটির আমেজে এসব বাড়তি ব্যয় উপেক্ষা করেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে সড়কে নামছেন মানুষ।
এএ-এর জরিপ বলছে, অধিকাংশ চালক তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন। প্রায় ৫৩ শতাংশ চালক ৫০ মাইলের কম দূরত্বে যাত্রা করবেন, পাঁচ শতাংশ ৫০ থেকে ১০০ মাইল এবং এক শতাংশ ১০০ থেকে ২০০ মাইল ভ্রমণের কথা জানিয়েছেন। ২০০ মাইলের বেশি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন এক শতাংশেরও কম মানুষ। ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাজ ও কেনাকাটার কারণেও অনেকে সড়কে নামছেন।
বার্মিংহামকে কেন্দ্র করে এম৬ মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এর পাশাপাশি এম২৫, এম৫, এ৩০৩ ও এম৪ সড়কেও বাড়তি চাপ থাকবে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল সড়কের চলমান সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইস্টার উপলক্ষে অনেকেই ইউরোপে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের যুক্তরাজ্য থেকেই জ্বালানি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম যুক্তরাজ্যের তুলনায় বেশি। ফলে দেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে জ্বালানি নেওয়া সাশ্রয়ী হতে পারে।
এদিকে ভ্রমণ সংস্থা অ্যাবটা জানিয়েছে, গুড ফ্রাইডে থেকে ইস্টার সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মানুষ যুক্তরাজ্য থেকে বিদেশে যাবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের সময় নতুন সীমান্তব্যবস্থা চালু থাকায় বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সময়ে বিমান ভ্রমণ বাড়লেও রেলপথে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। দেশজুড়ে ২৭০টির বেশি উন্নয়নকাজ চলায় বহু ট্রেনযাত্রা ব্যাহত হবে। গুড ফ্রাইডে থেকে ছয় দিন ওয়েস্ট কোস্ট মেইন লাইনের একটি অংশ বন্ধ থাকায় লন্ডন ইউস্টন ও মিল্টন কেইন্সের মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।




