চলতি বছরের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। হ্যালিফ্যাক্স হাউস প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, মার্চে বাড়ির গড় মূল্য ০.৫% হ্রাস পেয়ে £২৯৬,৬৯৯-এ দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় £১,৫৭৫ কম। তবে বার্ষিক ভিত্তিতে মূল্যবৃদ্ধির হার ২.৮% অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস ঘোষিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য শূন্য করের সীমা £৪২৫,০০০ থেকে কমিয়ে £৩০০,০০০ করা হয়েছে, এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য £২৫০,০০০ থেকে £১২৫,০০০ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়, যা মার্চে হ্রাস পায়।
হ্যালিফ্যাক্সের মর্টগেজ বিভাগের প্রধান অ্যামান্ডা ব্রাইডেন বলেন, “জানুয়ারিতে ক্রেতারা স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাড়ি কেনার জন্য তৎপর ছিলেন। তবে এখন সেই চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে এবং নতুন আবেদন কমছে।”
আঞ্চলিকভাবে, উত্তর আয়ারল্যান্ডে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি ৬.৬% হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। স্কটল্যান্ডে এই হার ৪.৩%, ওয়েলসে ৩.৭%, এবং ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ও হাম্বারসাইডে ৪.২%। অন্যদিকে, লন্ডনে মূল্যবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম, মার্চে ১.১%, যা ফেব্রুয়ারির ১.৫% থেকে কম। তবে লন্ডন এখনও যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঞ্চল, যেখানে গড় বাড়ির মূল্য £৫৪৩,৩৭০।
বাড়ির ধরন অনুযায়ী, টেরেসড বাড়ির বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি ৪.৫%, ডিটাচড বাড়ির ৪.১%, সেমি-ডিটাচড বাড়ির ৩.৮%, এবং ফ্ল্যাটের ৩.২%। বড় বাড়ির প্রতি চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, এপ্রিল থেকে ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ব্যয় বেড়েছে। তবে সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং মজুরি বৃদ্ধির কারণে মর্টগেজের সামর্থ্য কিছুটা উন্নত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, বছরের শেষ দিকে সুদের হার কমলে এবং মজুরি বৃদ্ধি পেলে আবাসন বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।




