জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার ষষ্ঠ দিনে পঞ্চম সংশোধনীর রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও ১০ বছরের বেশি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিষয়গুলোতে মত দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (২৫ জুন)রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে দিনব্যাপী আলোচনার পর গণমাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনের সদস্য হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-সহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। ঐকমত্য গঠনের মধ্য দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ প্রণয়নে আগামী রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আবারো আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন।
সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, আজকের আলোচ্যসূচির অন্যতম আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি)। সংবিধানে একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, এ বিধান যুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি। গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন এর কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি আরো বলেন, সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে এনসিসি গঠনের পক্ষে মত দেয়নি বিএনপি। এনসিসির পরিবর্তে যেই কমিটিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে সেটি নিয়েও কিছু কথা বলার আছে। আইনের সংস্কার না করে নির্বাহী বিভাগকে দুর্বল করার কোনো মানে হয় না। একটি দল স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছিল বলে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমিয়ে আনার প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করি। তাই এই সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ এর জন্য প্রস্তাবিত এই কমিটি নিয়ে বিএনপি একমত নয়। সাংবিধানিক পদের জন্য নিয়োগ কমিটি না করে বিদ্যমান আইনে কমিশন বা সার্চ কমিটি করে দিলেই হবে। নির্বাহী বিভাগকে যেকোনো ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত করা ও তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখানে মূল উদ্দেশ্য। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আইন প্রণয়ন ও সংস্কার করে গণতন্ত্রের আওতায় আনা বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য।
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পঞ্চম সংশোধনীতে প্রণীত সংবিধানের মূলনীতির সাথে সাথে কমিশনের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর সাথে একমত পোষণ করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।




