আজকের পত্রিকা ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘কারবালা; বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে ইমানের জয়’
কারবালা ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রান্তর, যেখানে ৬১ হিজরির মহররম মাসের ১০ তারিখে নবীনন্দিনী হজরত ফাতেমা (রা.)-এর আদরের দুলাল ইমাম হুসাইন (রা.) অত্যন্ত নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। কারবালার ঘটনা ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। এ ট্র্যাজেডির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে যে ক্ষত হয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে নবীপ্রেমিক মুসলিমদের কাঁদিয়ে যাচ্ছে। কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস হজরত হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল। আর এর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ইয়াজিদকে খলিফা নিযুক্ত করার মাধ্যমে। হজরত মুআবিয়া (রা.) তাঁর জীবনের শেষ সময়ে তিনি পরবর্তী খলিফা কাকে নিযুক্ত করবেন এ বিষয়ে তৎকালীন বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িনদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। কিছু সাহাবির পরামর্শ ছিল তাঁর পুত্র ইয়াজিদের দিকে, আবার আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর, সাইয়েদুনা ইমাম হুসাইন, আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর প্রমুখের মতো প্রাজ্ঞ সাহাবিদের মত ছিল ভিন্ন। এ দুই পরামর্শের মধ্যে হজরত মুআবিয়া প্রথমটি গ্রহণ করেন। তবে ইয়াজিদের হাতে বাইয়াত গ্রহণ-বিষয়ক নিয়মে তিনি বিপরীত মতের সাহাবিদের সঙ্গে নরম ও ইনসাফ কায়েম করার আদেশও দেন। এবং মৃত্যুর পূর্বে হজরত মুআবিয়া (রা.) এ বিষয়ে তাঁর ছেলে ইয়াজিদকে বিশেষ অসিয়তও করে যান।
আমার দেশের ধর্ম ও ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘আশুরার চেতনায় নির্মিত হোক দুঃশাসনমুক্ত সমাজ’
আশুরা! এক হৃদয়বিদারক ইতিহাসের নাম। কারবালার প্রান্তরে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সত্যের আত্মত্যাগের জ্বলন্ত উদাহরণ। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি গভীর বেদনার, একই সঙ্গে উদ্দীপনারও। এটি শুধু শোক আর স্মরণের দিন নয়; বরং এটি প্রতিবাদের, প্রতিরোধের এবং চেতনার দিন। যে চেতনা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সত্যের ঝান্ডা উঁচিয়ে ধরতে শেখায়, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে শহীদ হতে শিক্ষা দেয়। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম, কারবালা প্রান্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হুসাইন (রা.) ও তার পরিবারসহ ৭২ জন সাথি অন্যায় শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে শহীদ হন। তাদের অপরাধ ছিল একটিই, তা হলো জালিমের বায়াত না করা এবং সত্য ও ইনসাফকে সমর্থন করা। তারা রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখে গেছেন যে, সত্যের পথ কখনোই চুপ করে থাকার নয়, অন্যায়কে মেনে নেওয়া ঈমানের পরিপন্থী। কারবালার শহীদরা আমাদের দেখিয়ে গেছেন, জীবন হারানো যায়, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, শুধু ভাষণে নয়, বাস্তব জীবনে সত্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করতে হয়। আর এই শিক্ষা গ্রহণ করেই গড়ে তুলতে হবে একটি দুঃশাসনমুক্ত সমাজ।
যুগান্তর পত্রিকার ‘ইসলাম ও জীবন’ শীর্ষক পাতার প্রধান নিবন্ধ— ‘কারবালার কান্না শোনা যায় হোসনি দালানে’
তিরমিজি শরিফ বাবে মানাকিবের হাদিস থেকে জানা যায়, কারবালায় ইমাম হোসাইনকে শহীদ করার সময় দয়াল নবীজী (সা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাদিসটি এ রকম-সালমা (আল-বাকরিয়া) (রহ.) বলেন, একবার আমি উম্মে সালামা (রা.) গিয়ে দেখি তিনি কাঁদছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওগো উম্মুল মুমিমিন! আপনি কাঁদছেন কেন? উম্মে সালামা বললেন, ‘আমি রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছি। তার চেহারায় ও দাড়িতে ধুলা, গায়ে মাটি। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার এ রকম হলো কেন? উত্তরে তিনি বললেন, ওগো উম্মে সালামা! ওরা আমার হোসাইনকে কতল করে ফেলেছে। আমি এই মাত্র হোসাইনের কাছ থেকে এসেছি।’ বর্তমান হিসাবে মদিনা থেকে কারবালার দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার। এত বিশাল দূর থেকে কারবালার নির্মম ঘটনা শুনে সেদিন কেঁদেছিলেন উম্মে সালামা (রা.)। আর ইমাম পরিবারে নারী সদস্যদের কান্নার কথা কী বলব? প্রাণপ্রিয় ভাই হোসাইনের মৃতদেহ একদিকে পড়ে আছে। আর মাথা বর্শায় গেঁথে ইবনে জিয়াদ বুনো উল্লাসে এগিয়ে চলছে ইয়াজিদের দরবারে। বর্শায় গাঁথা ভাইয়ের মাথা দেখে কোন বোন নিজেকে ধরে রাখতে পারে। এতো গেল দুনিয়ায় হোসাইনের আপনজনদের কান্নার খণ্ড চিত্র।
দৈনিক সময়ের আলোর ইসলাম আলোর প্রধান শিরোনাম— ‘আশুরার ঐতিহ্য ও কারবালার প্রেরণা’
ইসলামে আশুরা ও কারবালা বহুল আলোচিত একটি বিষয়। ‘আশুরা’ অর্থ ‘দশম’; মহররম মাসের ১০ তারিখের দিনটিকে বলা হয় ‘আশুরা’। আর মহররম হচ্ছে হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। মুসলমানদের বছর গণনার প্রথম মাসের দশম দিনটি সৃষ্টির শুরু থেকেই নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আশুরা দিনের সবশেষ সংযোজন কারবালা প্রান্তরের এক মর্মান্তিক ঘটনা। ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই এ দিনটি ছিল পবিত্র ও সম্মানিত। প্রাচীন আরবের রীতিতে যে মাসগুলোতে যুদ্ধ করা হারাম ছিল তন্মধ্যে মহররম অন্যতম। আল্লাহ নিজেই এ মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ বলে ঘোষণা করেছেন। ‘মহররম’ শব্দের অর্থও সম্মানিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে গণনা হিসাবের মাস হলো বারোটি। যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষ সম্মানিত’ (সুরা তওবা : ৩৬)। এই আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে বারো মাস হলো-মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। আর হারাম বা সম্মানিত চারটি মাস হলোÑমহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। আশুরা শুধু একটি দিনের নামই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় দিন। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত।
দৈনিক কালবেলার ইসলামের বেলার প্রধান শিরোনাম— ‘আশুরার মাহাত্ম্য ও কারবালার ইতিহাস’
আশুরা ও কারবালা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ‘আশুরা’ আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘দশম’। মহররম মাসের দশম দিবসকে বলা হয় আশুরা। আর মহররম হচ্ছে হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। মুসলমানদের বছর গণনার প্রথম মাসের দশম দিবসটি সৃষ্টির শুরু থেকেই নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আশুরা দিবসের সর্বশেষ সংযোজন কারবালা প্রান্তরের এক মর্মান্তিক ঘটনা। ইসলামের আবির্ভাবের বহু আগে থেকেই এ দিনটি ছিল পবিত্র ও সম্মানিত। প্রাচীন আরবের রীতিতে যে মাসগুলোতে যুদ্ধ করা হারাম ছিল, তন্মধ্যে মহররম অন্যতম। আল্লাহ নিজেই এ মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ বলে ঘোষণা করেছেন। ‘মহররম’ শব্দের অর্থও সম্মানিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে গণনা হিসাবের মাস হলো ১২টি। যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এর মধ্যে চারটি মাস বিশেষ সম্মানিত।’ (সুরা তাওবা : ৩৬)। এই আয়াতের তাফসিরে বলা হয়েছে, ‘১২ মাস হলোÑ মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। আর হারাম বা সম্মানিত চারটি মাস হলো মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। এ মাসেরই দশ তারিখকে বলা হয় আশুরা। আশুরা মানে দশম দিবস। তবে এই আশুরাকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শিয়ারা আশুরার আবহমান কালের সব তাৎপর্য-মহিমা বাদ দিয়ে কেবল কারবারার মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশকেই প্রধান ইবাদত হিসেবে ধরে নিয়েছে। তারা ধারণা করে, নবীজির দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.)-এর প্রেমে রক্ত ঝরানোই প্রকৃত ইসলাম।
কালের কণ্ঠের ‘ইসলামী জীবন’ শীর্ষক পাতার প্রধান নিবন্ধ— ‘মেয়েদের হলজীবনে পর্দা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিবিধান’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো মুসলিম মেয়ের আবাসস্থল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় হল, মেস বা হোস্টেল। যদিও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন থাকার কারণে একটি নিরাপদ বিকল্প তৈরি হয়, বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকেই বাধ্যতামূলকভাবে হলে থাকা শুরু করতে হয়। পর্দা মেনে চলতে চাওয়া মেয়েদের জন্য এই হলজীবন প্রায় দুঃস্বপ্নের মতো। পরিবার, পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপরিচিত মানুষের মধ্যে, কখনো বিধর্মীদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করতে হয়। এই পরিবর্তন শুধু সামাজিক নয়, বরং পর্দাশীল মুসলিম নারীর জন্য ঈমানের একটি বড় পরীক্ষা। ইসলামে পর্দা নারীর সম্মান, আত্মমর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে হলজীবনের বাস্তবতা প্রায়ই এই পর্দা রক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করে।ইসলামে পর্দা কোনো ঐচ্ছিক সংস্কৃতি নয়, বরং কোরআন ও হাদিসে প্রমাণিত ফরজ ইবাদত।
খবরের কাগজের ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকরী মাধ্যম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা’
ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। গণমাধ্যমের ভাষ্যমতে, প্রতি বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগের কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। সামগ্রিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি সবিশেষ মনোযোগী হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। কালজয়ী জীবনাদর্শ ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ইসলামের অনন্য কিছু নিয়ে কথা বলব ইনশাআল্লাহ। পবিত্র এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে এবং যারা পবিত্র থাকবে, তাদের জন্য প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে প্রভূত কল্যাণ ও সওয়াবের।মদিনার নিকটবর্তী কুবা এলাকার লোকজন পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করত। তাদের ভূয়সী প্রশংসা করে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সেখানে এমন লোকেরা রয়েছে, যারা ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে পছন্দ করে। আর আল্লাহতায়ালা পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮)। আরও বর্ণিত আছে, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)। প্রিয়নবি (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের উঠান ও আঙিনা পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে রাখো। (জামে তিরমিজি, ৭৭৬৯)
আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম ও সমাজ পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘সংসার সুখের হয় যেসব গুণে’
পরিবার ইসলামি সমাজব্যবস্থার মূলভিত্তি। ইসলাম পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়করণে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করা, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি করা, তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো- শয়তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার অংশ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইবলিস পানির ওপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। এরপর চারদিকে তার দলবল পাঠায়। সবচেয়ে ছোট শয়তানও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। (দিন শেষে) একেকজন আসে, আর বলে- আমি এই করেছি, আমি ওই করেছি। শয়তান বলতে থাকে, তুমি কিছুই করোনি, তুমি কিছুই করোনি। এরপর বিশেষ একজন এসে বলে, আমি এক দম্পতির মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে এসেছি। শয়তান তাকে কাছে টেনে বলে, শাবাশ! শাবাশ!’ (মুসলিম : ২৮১৩)। স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদে শয়তান খুশি হয়। কারণ, এতে বংশধারা বন্ধ হয়ে যায়, বাচ্চাদের শিক্ষাদীক্ষায় বিঘ্ন ঘটে, সন্তানরা বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়; উপরন্তু মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। সমস্যা হলে দ্রুতই সমাধান : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নাও।’ (সুরা আনফাল : ১)। অর্থাৎ তোমাদের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করে নাও; যাতে পারস্পরিক প্রেম-ভালোবাসা ও মতৈক্যের সৃষ্টি হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের নামাজ-রোজা ও সদকার চেয়ে উত্তম কিছুর সংবাদ দেব না?’ সাহাবিরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘তা হলো, পারস্পরিক মনোমালিন্য সমাধান করা। মনোমালিন্য সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দেয়।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৪৯১৯)। আমাদের নিজেদের ও অধীনস্থদের সংশোধন করে নিতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের ও পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : ৬)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। সে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বোখারি : ২৪০৯)।
দৈনিক দেশ রূপান্তরের দৈনন্দিন ইসলামের প্রধান শিরোনাম— ‘ভূমি জবরদখলের শাস্তি ভয়াবহ’
জুলুম একটি ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও মানবতার শান্তি-সুশৃঙ্খলতা বিনষ্ট করে দেয়। ইসলাম এমন অন্যায়কে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। মহান আল্লাহ কোরআনে কারিমে বারবার জুলুম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জালেমদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য হাদিসে জুলুমের ভয়াবহ পরিণতি বর্ণনা করেছেন এবং তার অনুসারীদের সতর্ক করেছেন। জুলুম শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নানা স্তরে জুলুমের বহুমাত্রিক রূপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ভূমি জবরদখল বা জমি অন্যায়ভাবে দখল করে নেওয়া। সমাজের কেউ কেউ ক্ষমতা, অর্থবল কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের বসতভিটা পর্যন্ত জবরদখল করে নিচ্ছে। এমনকি সরকারি খাসজমি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। এ অনাচারের ফলে সমাজে ন্যায়বিচার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। বাড়ছে হানাহানি, বিবাদ ও রক্তপাত। অথচ ইসলাম একটি ন্যায়ের ধর্ম। এর প্রতিটি বিধানই মানবিক, ন্যায়নিষ্ঠ ও কল্যাণকামী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত।




