জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফেরার জন্য আন্দোলন করি নাই। সংস্কার ছাড়া, বিচার ছাড়া যদি পট পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা করা হয়। আমাদের বুকের ওপর দিয়ে গুলি চালিয়ে যেতে হবে। আমরা নির্বাচন চাই, অবশ্যই চাই। তবে সেটা সংস্কার ও জুলাই ঘোষণাপত্রসহ।
রবিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আর আগে নগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে নিউ মার্কেট ঘুরে সাহেববাজারের সমাবেশে যুক্ত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন প্রমুখ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা ছাত্র, আপনারা যারা পরতর্তী সময়ে এসি হবেন, এসপি হবেন, ডিসি হবেন। আপনারা কি কোনো রাজনৈতিক দলের দালালি করতে চান? আপনারা কি আর কোনো স্বৈরাচারের পাহারাদার হতে চান? গণঅভ্যুত্থানে যারা দাঁড়ি পাকাওয়ালা মানুষ কয়জন রক্ত দিয়েছে। ছাত্র-তরুণ তারা কয়জন রক্ত দিয়েছে। যারা সংস্কার কার্যক্রম বন্ধ করতে চান- আপনাদের তরুণদের সাথে বসতে হবে। তাদের জিজ্ঞাস করতে হবে, তারা আর তাঁবেদারি করতে চায় কি না। এই তরুণ সমাজ আর দালালি করতে চায় না। এই তরুণ সমাজ আর তাঁবেদার হতে চায় না। এই তরুণ সমাজ আর স্বৈরাচার হতে চায় না।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা জেনে রাখুন আপনারা তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দাঁড়িপাকা মুরুব্বিরা ফেল করেছে, বাবারা ফেল করেছে। তখন সন্তানেরা রাস্তায় নেমে এসেছে। বাবাদের কাঁধ পেতে দিয়েছে সন্তানেরা। যে আমি যাচ্ছি আমার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়াও। কাকে ভয় দেখান। আমাদের হারানোর কিছুই নাই। আমাদের ব্যাংক নাই। আমাদের লুটপাটের ব্যাংক নাই যেটি আমরা হারাব। আমাদের শুধু আছে মানুষের ভালোবাসা। সেটার জন্য আমরা আবারও রাস্তায় এসে জীবন দেব।
তিনি আরো বলেন, ডিসি, এসপিদের বলছি- আপনারা যে ভালো ব্যবহার করছেন, আমরা জানি আপনারা চিপায় পড়ে আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করছেন। যদি হাসিনার পতন না হতো তখন এই ডিসি, এসপিরাই গণভবনে প্রমোশনের জন্য লাইন ধরত। আমরা সাংবাদিকদের দেখছি। আমরা তাদের ওপর নজর রাখছি। এই সাংবাদিকরাই জুলাই অভ্যুত্থানে আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার জন্য হাসিনার পক্ষ থেকে পুরস্কার পেতো। বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে, আমরা বেঁচে থাকতে আর বাসা থেকে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে গুম হতে দেওয়া যাবে না। কোনো মায়ের বুক আর খালি হবে না। কোনো দেশপ্রেমিক সাংবাদিককে বিদেশে থাকতে হবে না।




