তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে পুরো জাতির মধ্যেই দ্বিমত নেই উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল পুরোপুরি জুডিশিয়ারি (বিচার বিভাগ) নির্ভর। এখন আমরা চাই, ঐকমত্যের ভিত্তিতে কয়েকটি বিকল্প কাঠামো তৈরি হোক, যাতে বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত না করে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ সম্ভব হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে কয়েকটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
রবিবার (১৩ জুলাই) কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর দ্বিতীয় ধাপের ১২তম দিনের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের আলোচনায় বিএনপি ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার।
নতুন প্রস্তাব নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার ৩০ দিন আগে রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একজন উপযুক্ত নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে যদি ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায় তাহলে প্রধান উপদেষ্টা পদে কারও নাম প্রস্তাব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে (বিরোধী দল থেকে) নিয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই কমিটির সভাপতিত্ব রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার যে কেউ করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি সভাপতিত্ব করলে কমিটিতে তাঁর ভোটাধিকার থাকবে না, তিনি শুধু শুনানি করবেন। আর স্পিকার সভাপতিত্ব করলে তাঁর ভোটাধিকার থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির ধারণাও দিয়েছে বিএনপি। সেখানে এই চার সদস্যের সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের একজন প্রতিনিধি যুক্ত হবেন। এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর ভোটাধিকার থাকবে। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার এবং ৫ শতাংশ ভোট পাওয়া বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে একটি সুপারিশ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে বিএনপি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি এসব প্রস্তাবেও ঐকমত্য না হয় তাহলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর আলোকে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকে (যাঁদের বয়স ৭৫ বছরের কম) একজনকে মনোনীত করার প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়ন দেবে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। যদি কোনোভাবে ঐকমত্যে আসা না যায় সে ক্ষেত্রে একদম লাস্ট অপশন (শেষ বিকল্প) হিসেবে একটা ইনস্টিটিউশনের (প্রতিষ্ঠানের) প্রধানকে রাখা যায়।




