খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত একজন শহীদের খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়নি। জুলাই মাস শেষ হতে চললেও জুলাই সনদ ঘোষণা ও মৌলিক সংস্কারে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। পরাজিত শক্তি এখনো ওৎ পেতে আছে। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা শক্তি নতুন করে বাংলাদেশের প্রতি কৌতূহলী হয়ে উঠছে। দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। আমরা এসবের অবসান চাই। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। খেলাফত মজলিস এই লক্ষ্যে কাজ করছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর চত্বরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি সেদিন ১৬ জুলাই ২০২৪ আবু সাঈদসহ ৬ জন ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলেও শহীদরা মরেনি। শহীদ আবু সাঈদসহ ৬ শহীদের রক্তের বিনিময়ে সেদিন গণঅভ্যুত্থানের বার্তা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। মূলত শহীদ আবু সাঈদরা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সূচনা ঘটায়। ৫ আগস্ট জাতি ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তিলাভ করে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবন কামনা করছি।
তিনি আরো যে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই শহীদরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তা এখনো বিলোপ হয়নি। যেভাবে দেশপ্রেমিক শক্তির সুদৃঢ় ঐক্য সেদিন গড়ে উঠেছিল তা দলীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আজ ধ্বংস হতে চলেছে। অভ্যুত্থানের এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত একজন শহীদের খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়নি। জুলাই মাস শেষ হতে চললেও জুলাই সনদ ঘোষণা ও মৌলিক সংস্কারে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। পরাজিত শক্তি এখনো ওৎ পেতে আছে। জাতিসংঘসহ পশ্চিমা শক্তি নতুন করে বাংলাদেশের প্রতি কৌতূহলী হয়ে উঠছে। দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। আমরা এসবের অবসান চাই। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। খেলাফত মজলিস এই লক্ষ্যে কাজ করছে।
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম-মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাজী নুর হোসেন, আমীর আলী হাওলাদার, শ্রমিক মজলিস সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম এরশাদ, মহানগরী দক্ষিণ সহ-সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম হুমায়ুন কবির আযাদ, কাজী আরিফুর রহমান, মাওলানা সরদার নেয়ামত উল্লাহ, সেলিম হোসাইন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, ইসলামী যুব মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মনসুরুল আলম, ছাত্র মজলিস মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন প্রমুখ।




