ঢাকার গুলশানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। খবর বিবিসি বাংলার। সমন্বয়কের পরিচয়ে চাঁদা দাবি এবং এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও পুলিশের হাতে আসার পর পাঁচজনকে আটক করেছে গুলশান থানা। তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদও রয়েছেন। এ ঘটনার জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া বাকি সব কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে এনসিপি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে ইতোমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সংগঠনগুলোর ভেতর থেকেই অনেকে বলছেন, ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজি, তদবির ও প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সচিবালয়েও তাদের অবাধ বিচরণ ছিল।
আটককৃতদের একজন রিয়াদের আগেও বিভিন্ন অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমার একটি ফেসবুক পোস্টে জানা যায়, তিনি রিয়াদের বিরুদ্ধে পূর্বেও হুমকি ও অপব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি সংগঠনকে জানিয়েছিলেন।
এনসিপি নেতা মাহিন সরকার ও গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খানও এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেন এবং দাবি করেন, এই অপসংস্কৃতির কারণেই নির্বাচনের দাবি নেই এসব সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে, কারণ নির্বাচনের অভাবে তারা সহজে প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি চালাতে পারছে।
তিনটি সংগঠনের নেতারাই স্বীকার করেছেন যে, সংগঠনগুলোর পরিচয়কে ব্যবহার করে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে জড়িয়েছে এবং এসব ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তবে তারা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অপরাধ সমাজতাত্ত্বিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, সংগঠনগুলোর দুর্বল দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারই এই ‘সমন্বয়ক পরিচয়’-নির্ভর চাঁদাবাজির প্রবণতা বাড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে এই প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব নয়।
সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একে কেন্দ্র করে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।




