- কালের কণ্ঠের ‘ইসলামী জীবন’ শীর্ষক পাতার প্রধান নিবন্ধ— ‘মুসলিম সভ্যতায় মসজিদভিত্তিক পাঠাগার’
ইসলামী সমাজ ও সভ্যতার সূচনা হয় মসজিদ কেন্দ্র করেই। মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদই ছিল মুসলমানদের সব কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। তিনি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন সুফফা নামক একটি আবাসিক জ্ঞানকেন্দ্র। মহানবী (সা.)-এর পর সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেঈদের যুগেও ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্র ছিল মসজিদ। প্রখ্যাত সাহাবি ও তাবেঈরা বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করতেন। জ্ঞানচর্চার এই ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হয় পাঠাগার, যা পরবর্তী যুগে মুসলিম সমাজ ও সভ্যতায় ইসলামী জ্ঞানের প্রসার ঘটাতে অসামান্য অবদান রাখে।
- দৈনিক কালবেলার ইসলামের বেলার প্রধান শিরোনাম— ‘ইসলামে জনগণের মতামতের গুরুত্ব’
ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সব জায়গায় রয়েছে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান মানুষের মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন নিশ্চিত করে। মানুষ হিসেবে আমির-ফকির, রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব সবাই সমান। প্রতিটি নাগরিকের বক্তব্য-মন্তব্য ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তাই দেশে পরিচালনার আসনে যারা বসেন তাদেরও কর্তব্য, নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। ইসলামের দৃষ্টিতে দেশ পরিচালনার মূল ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহ এবং তার আলোকে প্রণীত শরিয়ত। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলাম জনমতকে উপেক্ষা করেনি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে জনমত বিশেষ গুরুত্বও দিয়েছে। ইসলামের বিধান অনুসারে শাসকরা জনগণের কথা শুনবে। ইসলামে শাসক ও নাগরিকের ভেতর কোনো মাধ্যম বা প্রতিবন্ধক অনুমোদিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জনসাধারণের কোনো দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলো এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার আড়ালে থাকবেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২০৭৬)। তৃতীয় খলিফা ওমর (রা.)-এর যুগে কুফার গভর্নর সাআদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর ব্যাপারে অভিযোগ আসে যে, পৃথক ভবন নির্মাণ করেছেন এবং তাতে দরজা লাগিয়েছেন, ফলে জনসাধারণ চাইলেই তার কাছে যেতে পারে না। তখন ওমর (রা.) তাকে মদিনায় ডেকে পাঠান। (তারিখে তাবারি: ৩/১৫০)।
- আজকের পত্রিকার ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘ইতিহাসের পাতায় মজলুমের বিজয়গাথা’
জুলুম এক অন্ধকার, যা মানবতাকে গ্রাস করার চেষ্টা করেছে প্রতিটি যুগে। কিন্তু চিরন্তন সত্য হলো, জুলুম ক্ষণস্থায়ী, আর মজলুমের বিজয় সুনিশ্চিত। মজলুমের কান্না আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তার দোয়ার মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘মজলুমের দোয়াকে ভয় করো। কারণ, তার (দোয়া) এবং আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।’ (সহিহ বুখারি)। যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা জুলুমের শিকার হয়েছেন, কিন্তু তাঁদের দৃঢ় ইমান ও ধৈর্য শেষ পর্যন্ত বিজয়ের আলো এনেছে। ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে তাঁদের সেই বিজয়গাথা।
- আমার দেশের ধর্ম ও ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘তারুণ্যের প্রতি আস্থায় ইসলাম’
প্রত্যেক জাতির উন্নতি নির্ভর করে তরুণ প্রজন্মের ওপর। নবীনরা সমাজের প্রাণশক্তি, পরিবর্তনের চালিকাশক্তি এবং ভবিষ্যতের স্থপতি। আর প্রবীণরা হলেন অভিজ্ঞতার বাতিঘর। নবীনদের হাত ধরে সমাজ গঠিত হয়, আর প্রবীণদের অভিজ্ঞতা সেই সমাজকে পথ দেখায়। কিন্তু একে অপরকে বিশ্বাস না করলে সেই সমাজে ভারসাম্য নষ্ট হয়। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নবীনদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি ঈমানি দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের মধ্যে রয়েছে সওয়াব, বরকত ও ভবিষ্যৎ গঠনের নিশ্চয়তা।
- দৈনিক সময়ের আলোর ইসলাম আলোর প্রধান শিরোনাম— ‘মদিনা যে কারণে মুসলমানদের প্রিয়’
মুসলমানদের কাছে এটি দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর। মক্কার পরেই পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র জায়গা হিসেবে মদিনা শহরকে সম্মানিত করা হয়েছে। মদিনা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘আল মদিনা আল মুনাওয়ারা’ যার বাংলা অর্থ আলোর শহর। নবীর নামেও চেনে মানুষ। ইসলামের প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয় এ শহর থেকেই। নবীজি (সা.)-এর আগমনের আগে এ শহরের নাম ছিল ইয়াসরিব। মদিনা শহরের মোট আয়তন ৪৪৫.৫ কিলোমিটার বা ২২৭ বর্গমাইল। নবীজির রওজা মোবারক মদিনা শহরে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম মদিনা শহরে আসে নবীজির রওজা মোবারক পরিদর্শন করতে। পৃথিবীতে মসজিদুল হারাম এর পরেই মসজিদে নববীর স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। নিজেও এর নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেছেন। নবীজির মদিনায় হিজরতের পর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নবীজির কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যেই সব হাজিরা মসজিদে নববীতে এসে উপস্থিত হন। মসজিদের সবুজ গম্বুজবিশিষ্ট কক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), হযরত ওমর (রা.) ও হজরত আবু বকর (রা.)-এর রওজা মোবারক অবস্থিত। সবুজ গম্বুজবিশিষ্ট এই কক্ষটি হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘর ছিল। মুসল্লিরা সাধারণত হজের শুরুতে বা শেষে মসজিদে নববীতে এসে অবস্থান করেন।
- খবরের কাগজের ইসলাম পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা’
ইসলামে দ্বীন বলতে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থাকে বোঝায়, যা বিশ্বাস, নৈতিকতা এবং সামাজিক রীতিনীতিসহ জীবনের সব দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। দ্বীন শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য শুধু ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি জীবনদর্শন, যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য পথপ্রদর্শন করে। ‘জীবনব্যবস্থা’ শব্দটি সাধারণত জীবন পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা পদ্ধতিকে বোঝায়। এটি একটি ব্যাপক ধারণা–যাতে ব্যক্তি, সমাজ এবং প্রকৃতির বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত। এটি ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক নিয়মকানুনসহ জীবনের সব ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ইসলাম অনুষ্ঠানসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়। আল্লাহতায়ালা ইসলামকে দ্বীন অর্থাৎ জীবনব্যবস্থা বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে একমাত্র দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) হচ্ছে ইসলাম। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই তারা মতানৈক্য করেছে, পরস্পর বিদ্বেষবশত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহের সঙ্গে কুফরি করে, নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে দ্রুত।’ (সুরা আলে-ইমরান, ১৯)। এ আয়াতে স্পষ্টভাবে ইসলামকে একমাত্র জীবনব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করা কুফরির শামিল।
- যুগান্তর পত্রিকার ‘ইসলাম ও জীবন’ শীর্ষক পাতার প্রধান নিবন্ধ— ‘তিন কিংবদন্তি আলেম সাংবাদিক’
মওলানা আকরম খাঁ, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ছিলেন সমকালীন বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আলেম, সমাজসংস্কারক, আপসহীন রাজনীতিক, নির্ভীক বক্তা, সাহিত্যিক, সাহসী সাংবাদিক ও সফল সম্পাদক। ধর্ম, দেশ এবং মানুষের জন্য তাদের ভূমিকা ছিল অনন্য। তাদের জীবন সাধনা বাংলা মুসলিম সমাজের মানসিক অবকাঠামো রচনায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। তিন কিংবদন্তির কণ্ঠস্বর আজও প্রেরণা হয়ে আছে আমাদের জন্য।
- আলোকিত বাংলাদেশের ইসলাম ও সমাজ পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে মসজিদ’
আল্লাহর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদ। এটি মুসলিম সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ও ইসলামের নিদর্শনাবলির অন্যতম স্থান। মসজিদে মুসলমানরা দ্বীনের মূলভিত্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। ইসলামের মূলভিত্তি আদায়ের স্থান হিসেবে দ্বীনের অন্য কার্যাবলি সম্পাদনেও মসজিদের ভূমিকা প্রাসঙ্গিক ও অনস্বীকার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব কর্মকাণ্ড মসজিদ থেকে পরিচালনা করেছেন। অথচ কালের পরিক্রমায়, বিশেষত বাংলাদেশে মসজিদ শুধু নামাজের স্থান হিসেবে বিবেচিত। মুসলমানদের চরিত্র গঠন, দীনি শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মসূচিতে মসজিদের কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে। মসজিদ তার অতীত গৌরবে ফিরে এলে মসজিদই হতে পারে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের পরীক্ষিত উপাদান। মসজিদের সঙ্গে আছে ঈমানের সম্পর্ক। ঈমানদারই মসজিদের আবাদ করে। সে যেখানেই থাকুক, তার অন্তর মসজিদের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। সে নামাজের সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকে। সময়মতো মসজিদে গমন করে। নামাজের পর যখন মসজিদ থেকে বেরোয়, পরবর্তী নামাজের অপেক্ষায় থাকে। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই সে স্বাচ্ছন্দ্যে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে সক্ষম হয়। মসজিদের সঙ্গে এ রকম আত্মার সম্পর্ক যাদের, হাশরের ময়দানে তাদের ঠিকানা হবে আল্লাহর আরশের সুশীতল ছায়াতলে।
- দৈনিক দেশ রূপান্তরের দৈনন্দিন ইসলামের প্রধান শিরোনাম— ‘বিড়ালের প্রতি নবীজির স্নেহপূর্ণ আচরণ’
বিড়াল পরিচ্ছন্ন, শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ প্রাণী। মুসলিম সমাজে বিড়াল পোষার একটা স্বতঃস্ফূর্ত ধারা রয়েছে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, ইসলাম এই প্রাণীটির বিষয়ে কতটা দয়াশীল ও সহনশীল হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। হাদিসে বিড়ালের প্রতি সদয় আচরণ, স্নেহ ও যতœ প্রদর্শনের বহু নিদর্শন পাওয়া যায়। বিড়ালের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নিষেধ করা হয়েছে। নবীজি (সা.) বিড়ালের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ আচরণ করতেন। বিড়ালের সুরক্ষা, যতœ ও অধিকারের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে প্রতি বছর ৮ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস। বর্তমানে বিশে^র বিভিন্ন প্রাণী সংস্থা ও নাগরিক উদ্যোগে এই দিবসটি পালিত হয়।
- প্রতিদিনের সংবাদের ইসলাম ও জীবন পাতার প্রধান শিরোনাম— ‘দুশ্চিন্তা কমানোর উপায়’
দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা মানুষকে সমাজ থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। নিজের খেই হারিয়ে ফেলে। বন্ধুত্ব, পরিবার আর গোটা সমাজকেই অসহ্য মনে হয়। পৃথিবীময় বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও পেরেশানি রয়েছে। নিন্মে অস্থিরতা কমানোর কিছু উপায় বর্ণনা করা হলো- প্রত্যেক মানুষ ধন-সম্পদ ও মান-ইজ্জতের প্রতি দৃষ্টি রাখে যে, মানুষ কত উন্নতি ও অগ্রগতি করছে। সঞ্চয় করছে কত প্রচুর ধন-সম্পদ অর্জন করছে। কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গেল আর আমি যেমন আছি তেমনই। প্রথমত মাল ও মুনসিফ কম হওয়ার পেরেশানি দ্বিতীয়ত পেরেশানি হলো এই যে, ‘হায়, আমার সাথী সঙ্গিরা কত উন্নতি করছে আর আমি যেই সেই। আজকাল এগুলো ভেবে ভেবে দুনিয়া ভারী পেরেশান, যদি সব মানুষ সমান পর্যায়ের হতো তাহলে কোনো চিন্তা আসত না।




